পাথেয় রিপোর্ট : অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে মিরপুর টেস্ট রাঙালেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরিটা উদযাপন করলেন স্বভাবজাত ঠান্ডা প্রকৃতিতেই। একটি অনিন্দ্য সুন্দর ইনিংসের পূর্ণতা পেল মিস্টার কুলের একেশায়। রোস্টন চেজের বলটি কাট করে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে নিজের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরিটা পূরণ করলেন তিনি। ২০১০ সালে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটি পাওয়ার পর আট বছর বিরতি দিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ টেস্টে পেয়েছিলেন দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরিটি। তৃতীয়টি পেতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হলো না তাঁকে।
এই টেস্টে সেঞ্চুরি পেতে পারতেন সাদমান ইসলাম ও সাকিব আল হাসান। তবে সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেননি তারা। কিন্তু অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে ঠিকই সেঞ্চুরি করে ছাড়লেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মাটি কামড়ে পড়ে থেকে এ পথে ২০৩ বলে মাত্র ৬টি চার মেরেছেন মিস্টার কুল। এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক।
মাহমুদউল্লাহ প্রথম সেঞ্চুরি করেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১০ সালে। এরপর এ ফরম্যাটে ভীষণ রানখরায় ভুগেছেন তিনি। দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেতে আট বছরের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে।গেল মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুরেই তিন অংক স্পর্শ করেন এ মিডলঅর্ডার। তিন সপ্তাহ না পার হতেই ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরি পেয়ে গেলেন তিনি। ক্যারিয়ারে সম্ভবত এটিই তার চোয়ালবদ্ধ সেঞ্চুরি।
প্রথম দিনের ৫ উইকেটে ২৫৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন খেলতে নামে বাংলাদেশ। সাকিব ৫৫ ও মাহমুদউল্লাহ ৩১ রান নিয়ে খেলা শুরু করেন। প্রথম ইনিংসে ৪০০ করতে পারলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া যাবে। সেই প্রত্যয় নিয়ে ব্যাটিং শুরু করেন তারা। ধীরে ধীরে সেই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল টাইগাররা। দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন দুই ব্যাটিং স্তম্ভ।
স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছুটিয়ে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সাকিব। দারুণ খেলছিলেন তিনি। রীতিমতো প্রতিপক্ষ বোলারদের শাসাচ্ছিলেন। তবে হঠাৎই খেই হারান। কেমার রোচের বলে গালিতে শাই হোপকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্বাগতিক অধিনায়ক । ফেরার আগে ৬ চারে ৮০ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। তাতে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ভাঙে তার ১১১ রানের জুটি।
সকালে দ্রুত ফিরেছিলেন সাকিব। তবে তার বিদায়ের প্রভাব বিন্দুমাত্র টের পেতে দেননি লিটন দাস। স্বাচ্ছন্দে খেলেন তিনি। সোজা ব্যাট চালান।তবে প্রথমবারের মতো পরাস্ত হতেই সাজঘরে ফেরেন দারুণ খেলতে থাকা এ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ফেরেন তিনি।
ফেরার আগে রানের ফোয়ারা ছুটিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন লিটন। শেষ পর্যন্ত ওয়ানডে স্টাইলে দৃষ্টিনন্দন সব শট খেলে ৫৪ রানে ফেরেন তিনি। এর ৩৮ রানই আসে চার (৮টি) ও ছক্কা (১টি) থেকে।
চা বিরতির ঠিক আগেই সেঞ্চুরি পূরণ করেছেন মাহমুদউল্লাহ। বিরতিতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ৪৭১। মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ১১১ রানে। তাঁকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন তাইজুল। তিনি অপরাজিত ২৬ রানে। এই দুজন ইতিমধ্যেই ৫০ রানের জুটি গড়েছেন (নির্দিষ্ট করে ৫৩)। দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ যোগ করেছেন ৮৪ রান।
লিটনের পর ক্রিজে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতেও আলো ছড়াচ্ছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই তার ওপর এদিনও প্রত্যাশা ছিল দলের। তবে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে ব্যক্তিগত ১৮ রানে ফেরেন তিনি। প্রথমে অবশ্য আউট দেননি আম্পায়ার। পরে ক্যারিবিয়ানরা রিভিউ নিলে তাদের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক প্রমাণ হলে আঙুল উঁচু করতে বাধ্য হন আলিম দার।


