পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম (নয়াদিল্লী) : শরীয়তে ইসলামী এবং এর শিক্ষা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দ্বীন ইসলামকে শেখা এবং অন্যকে শেখানোর জন্য আমাদের এই পরিমাণ সময় দেয়া উচিত যে পরিমাণ সময় আমরা আমাদের দুনিয়াবি কাজে দিই এবং দ্বীনকে জানা ও এর উপর আমল করা মুসলমানের ওপর আবশ্যক বলে জানান ভারতের নয়াদিল্লীর আবুল কালাম আজাদ একাডেমির সিনেটর মাওলানা মুহাম্মাদ রহমানী।
২৩ নভেম্বর শুক্রবার নয়াদিল্লির জোগাবাই সিনেটর মসজিদে জুমআর বয়ানে এসব কথা বলেন তিনি।
আলেম ওলামাদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে তাঁদের থেকে। তার সত্য ও শুদ্ধের পথ সম্পর্কে মানুষকে জানায়। তাদের থেকেই শরীয়তের জ্ঞান অর্জন করতে হবে আমাদের।
মাওলানা রহমানী উলামায়ে হকের কিছু গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, শান্তি, নিরাপত্তা- ভয় ও আশঙ্কা উভয় অবস্থাতেই উলামায়ে হক উম্মতকে সত্য পথনির্দেশ করেন এবং সত্যকে প্রকাশ করেন। সত্য প্রকাশে তাদের ভেতর কোন ভয় কাজ করে না। তাই উম্মতের ও জিম্মাদারি হলো সর্বাবস্থায় রাসূলের আদর্শকে মেনে চলবে এবং হক্কানী উলামায়ে কেরামের দিকে ঝুঁকবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরা নিসা-এর ৩৮ নাম্বার আয়াতে এ বিষয়েরই উল্লেখ করেছেন।
২.উলামায়ে হক সর্বদাই উম্মতের জন্য নিদর্শন ও হকের চিহ্ন হয়ে থাকেন।
৩. তারা যা বয়ান করেন, তার উপর নিজেরাও আমল করেন।
৪. তারা উম্মতে ইসলামীর বিভিন্ন হক দলের প্রতি দয়ালু মনোভাব পোষণ করেন। সমস্যা ও কাঠিন্যতার বদলে সহজতার সৃষ্টি করেন।
৫. উলামায়ে হক সবচেয়ে বেশী মুত্তাকী ও খোদাভীরু হয়।
৬. অসহযোগ ও বিপদসঙ্কুল পরিস্থিতিতে তারা ধৈর্যের মাধ্যমে কাজ আদায় করেন এবং উম্মতকেও ধৈর্য ধরার নসীহত করেন।
৭. দাওয়াত ও তাবলীগের কাজে তাদের অনুসরণকারীদের সাথে সুকৌশলী, অলস বা আরামপ্রিয় সাথীদের সাথে উপদেশ এবং বিরোধীদের সাথে সুন্দর আলোচনার মাধ্যমে কাজ করেন।
৮. পঠনপাঠনে নিয়মতান্ত্রিকতার ইহেতমাম করেন এবং একে অন্যের ভিন্ন ভিন্ন যোগ্যতা নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা করেন। সনদপ্রাপ্ত উলামায়ে হকের সাহচর্য ও তরবিয়তপ্রাপ্ত হন।
৯. ফতোয়া, শরীয়তের বিধানাবলী ও মাসআলা বর্ণনার ক্ষেত্রে কুরআন, হাদীস, ইজমায়ে উম্মত এবং সালফে সালেহীনের বুঝের পুরোপুরি খেয়াল রাখেন। এবং এসব বিষয়ের সর্বদিক সম্পর্কে অবগতি রাখেন।
১০. দ্বীন ও ইসলামের শত্রু ও বিরোধী পক্ষের মোকাবেলায় তারা সদা প্রস্তুত এবং তাদের কূটচাল সম্পর্কে আগে থেকেই মানুষকে সতর্ক করেন। এবং এই ময়দানে তারা নির্ভীক।
১১. তারা সবসময় অশুদ্ধ ও খারাপকে এড়িয়ে চলে শুদ্ধ, সত্য ও ভালোর অন্বেষণকারী হয়। বেদআত, ভণ্ডামি এবং মূর্খতাপূর্ণ আচরণ ও কথা থেকে বিরত থাকেন এবং অন্যদের ও এ বিষয়ে সতর্ক করেন। শরীয়তের মাসআলা মাসাইলে সম্পর্কে গভীরভাবে পরিজ্ঞাত হন।
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির
তথ্যসূত্র : ডেইলি হামারা সামাজ, দিল্লী


