পবিত্র হজে গুরুত্বপূ্র্ণ তিনটি বিষয় তথা হজের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত সম্পর্কে জানা জরুরি।এ সবক’টি বিষয়ে জেনে পরিপূর্ণ আমল করে মহান মালিকের দরবারে হজ্জে মাবরুরের প্রার্থনা করি আমরা। নিচে হজের ফরজগুলো তুলে ধরা হলো-
হজের ফরজ তিনটি।
১। ইহরাম বাঁধা
২। উকূফে আরাফাহ(আরাফার ময়দানে অবস্থান করা)
৩। তাওয়াফে যিয়ারাত (চার চক্কর পরিমাণ)
১। ইহরাম বাঁধা অর্থাৎ হজের নিয়ত করা।
হে আল্লাহ! আমি হজ,ওমরাহ এবং কাবাগৃহ তাওয়াফের জন্য নিয়ত করলাম। তুমি তা কবুল কর।
ইহরাম বাঁধার নিয়মঃ হজ্জ্ব ও ওমরাহর আমলগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম আমল হলো ইহরাম বাঁধা। ইহরাম বাঁধার নিয়ম হলো- হজ অথবা ওমরাহর নিয়তে সেলাইকৃত কাপড় খুলে সেলাইবিহীন দুটি চাদর পরিধান করে ‘তালবিয়াহ্’ পাঠ করা, শরিয়তের পরিভাষায় একেই ‘ইহরাম’ বলা হয়। ইহরাম বাঁধার উত্তম পদ্ধতি হলো-যখন ইহরাম বাঁধার ইচ্ছা করবে তখন প্রথমে গোসল অথবা অজু করবে, নখ কাটবে, বগল ও নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে এবং মাথা ও দাড়ি চিরুনি করে সর্ববিষয়ে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করবে।ইহরামের জন্য দুটি নতুন অথবা ধোলাই করা পরিষ্কার চাদর হওয়া সুন্নত। একটি চাদর দিয়ে লুঙ্গি বানাবে অন্যটি দিয়ে চাদর বানাবে। ইহরামের কাপড় পরিধান করার পর নামাজের মাকরুহ সময় না হলে মাথা ঢেকে দুই রাকাআত নফল নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব। নামাজ পড়ে মাথার কাপড় খুলে ফেলবে এবং যেই হজের ইচ্ছা করবে মনে মনে সেই হজের নিয়ত করে ইহরামের ‘তালবিয়াহ্’ পাঠ করবে।
‘তালবিয়াহ্’-
‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা-শারীকালাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা, লাকা ওয়াল মুল্ক লা-শারীকালাক’।
২। ওকূফে আরাফাহ: জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাহর ময়দানে অবস্থান করা।
৩। তাওয়াফে যিয়ারাত: অর্থাৎ মক্কা শরীফ পৌঁছার পর সর্বপ্রথম কাজটি হলো চারবার কাবাগৃহটি প্রদক্ষিণ করা আবার হজের কাজ শেষ করে বাড়িতে ফেরার সময় সর্বশেষ কাজ হলো তিনবার কাবাগৃহ প্রদক্ষিণ করে রওনা হওয়া।
সূত্র : মুফতি মুহাম্মদ আমিমুল ইহসান
হজ্জ্ব ও ওমরাহ ফাযায়েল মাসায়েল
গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


