পাথেয় রিপোর্ট : নয়াদিল্লী : রাজস্থানের আলোর জেলায় মিথ্যা দোষী সাজিয়ে নিরপরাধ আকবার খাঁকে হত্যা এবং দিল্লীর তর্লকপুরে গোলযোগ করে শোয়াইব নামের এক ব্যক্তির ওপর নৃশংস হামলার কঠিন সমালোচনা করেছেন হিন্দ ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও লোকসভা মেম্বার মাওলানা বদরুদ্দীন আজমল কাসেমী। তিনি বলেন, এসব অন্যায় কর্মকাণ্ড এ কথারই প্রমাণ করে যে, সুপ্রিমকোর্ট জনতার মধ্যে গোলযোগ সৃষ্টি করার অপরাধে যে বিধান রেখেছে তা মূলত এসব সামগ্রিক উগ্রবাদ ছড়ানো লোকদের ব্যাপারে বেশী জরুরি।
এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিজে এই অপরাধে অভিযুক্ত আসামীদের আইনের বাইরে রেখেছেন এবং আরেকজন মন্ত্রী তাদের পক্ষপাত করে বলেন, রাজ্য শাসনব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন ওঠাতেই এক শ্রেণির চক্রান্ত এটি
মাওলানা আজমল বলেন, এরকম ঘটনায় এ বিষয় স্পষ্ট হয় যে, রাজ্যের শাসনব্যবস্থা এসব উগ্রবাদ প্রতিহত করার ব্যাপারে সামান্যও চিন্তাশীল নয়। আসল কথা হলো রাজ্যের অবহেলাপূর্ণ আচরণই অপরাধীদের নির্ভয় করে তুলেছে। আরও লজ্জার কথা হলো, এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিজে এই অপরাধে অভিযুক্ত আসামীদের আইনের বাইরে রেখেছেন এবং আরেকজন মন্ত্রী তাদের পক্ষপাত করে বলেন, রাজ্য শাসনব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন ওঠাতেই এক শ্রেণির চক্রান্ত এটি।
মাওলানা আরও বলেন, বিজেপির এই শাসনমালেই রাজস্থান ও ঝাড়খণ্ডে উগ্রবাদীদের আস্ফালন বেড়ে গেছে এবং তারা সেখানে এ জাতীয় কর্মকাণ্ড দ্বারা মুসলমানদের জীবন বিপর্যস্ত করে তুলছে। তাদের রাজ্য শাসনব্যবস্থার হাস্যকর ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে মুসলিমরা এসব এলাকায় নিজেদের অনিরাপদ মনে করে। এ ছাড়াও উগ্রবাদীদের এমনসব কর্মকাণ্ডে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিজেপির পৃষ্ঠপোষকতাতেই এসব হয়ে চলছে।
তিনি বলেন, এই রাজস্থানেই বিগত দিনেও পেহলো খাঁ ও উমর খাঁকে একই কায়দায় হত্যা করেছিল উগ্রবাদীরা। কিন্তু রাজ্য সরকার এটিকে আমলে নেয়নি। বরং জনগণের চাপে অভিযুক্ত আসামীদের গ্রেফতার করা হলেও অধিকাংশকেই নোটিশ দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
মাওলানা আজমল বলেন, রাজ্যে মুসলমানদের টার্গেট বানিয়ে উগ্রবাদীরা তাদের হিংস্র কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। মুসলমানরা এখানে নিজেদের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত নয়। আর এসব ক্ষেত্রে রাজ্যের নিশ্চুপতা এ কথারই প্রমাণ রাখে যে, এখানে আইন সবার জন্য সমান বা সবার সঙ্গেই সবার শক্তি- এসব একটি স্লোগান মাত্র।
তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়টিকে পুনরায় পার্লামেন্টে উপস্থাপন করবো এবং আবেদন করবো এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্ট যেন কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এসব উগ্রবাদীদদের প্রতিহত করতে এমন আইন প্রয়োগ করে এবং কঠিন শাস্তি নির্ধারণ করে যেন পরে এ জাতীয় কোনও অপরাধ করতেই অপরাধী ভয় পায়।

অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
সূত্র : হিন্দুস্থান এক্সপ্রেস, দিল্লী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


