হাফেজদের সংবর্ধনাচিন্তা ছাত্রলীগের সবচেয়ে সফল উদ্যোগ
বাংলাদেশের কিশোর ছেলে,আমার সোনা ভাই,
তোদের সবার মুখে চাহি’শক্তি বুকে পাই।
তোরাই মোদের ভরসা বল,মুখের তোরা ভাষা
তোদের মাঝে ঘুমিয়ে আছে,দুখ্খ জয়ী আশা।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে পৃথিবীর মানচিত্রে নাম লেখায় স্বাধীন সার্বভৌম একটি ভূখণ্ড। যার নাম বাংলাদেশ। পশ্চিম পাকিস্তানী স্বৈরাচারী শাসকদের উৎপীড়ন, নিপীড়ন ও বিভিন্নভাবে অর্থনৈতিক শোষণের যাঁতাকলে তখন বাঙালি জাতি ছিল সর্বোপরি বঞ্চিত নিঃস্ব একটি জনগোষ্ঠী। ছিল না কোন অর্জন। না ছিল বিশ্বময় পরিচিতি লাভের কোন সুযোগ। আর্থিক অনটনের দরুন দেশের অবস্থা একেবারেই করুণ ছিল।
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর মেহেরবানিতে স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর বর্তমান প্রজন্ম বিশ্ব দরবারে ক্রমশ মাথা তুলে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। এই সুদীর্ঘ সময়ে যারা যেভাবেই বাংলাদেশকে বিশ্বময় পরিচিত করে তুলেছেন প্রত্যেকেই অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য।
এভারেস্ট পর্বতজয় ,বিজ্ঞানে অসামান্য অবদান, ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক সফলতালাভসহ বিভিন্নভাবে দেশের যে সমস্ত প্রতিভাবান সন্তানরা বিশ্ব দরবারে আমাদেরকে পরিচিত করে তুলছে আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেওয়া দেশের জন্যই উপকার।
অত্যান্ত খুশির বিষয় হচ্ছে, সম্প্রতি বাংলাদেশের হাফেজ ছাত্ররা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ পূর্বক দেশের জন্য ব্যাপক সফলতা বয়ে আনছে। বিগত কয়েকবছরে সৌদিআরব, কাতার, দুবাই, মিশর, ফিলিপাইনসহ বহু দেশের আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে বাংলাদেশের ছাত্ররা ১ম স্থান অর্জন করে বিশ্ব বিজয়ীর মুকুট ছিনিয়ে আনছে। ফলে, বাংলাদেশ বিশ্বময় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করার মাধ্যমে অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশ্ব দরবারে অবদান রাখার কারণে যে পরিমাণ সম্মাননা ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়ে থাকে তা এই হাফেজ ছাত্রদের ক্ষেত্রে একেবারেই নগন্য।
বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রেখেই শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির পতাকাবাহী মধ্য এশিয়ার সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিশ্বজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি খুবই উৎসাহ্যব্যঞ্জক সংবাদ।
এটি অত্যন্ত বড় মহৎ উদ্যোগ। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে চাই। মহান আল্লাহ তা’আলার এই উদ্যোগের সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করছি।
সবশেষে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের এই মহৎ উদ্যোগ কে প্রতিবছর জারি রাখার আহ্বান জানাই।
আহমাদ কাশফী
শিক্ষার্থী, ক্বওমী মাদরাসা।


