নারী দিবস ভাবনা
হিজাব আমাদের স্বাতন্ত্র্যবাদের প্রতীক
শেখ ফজলুল করীম মারুফ : নারী মনুষ্য প্রজাতিরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইসলাম নারীকে পুরুষের সাথে এতটাই একাত্ম করে বিবেচনা করেছে যে, আলাদা করে নারী উন্নয়ন বা নারী মুক্তির আলোচনা ইসলাম করেনি বরং মানব জাতির উন্নয়ন ও মানবতা মুক্তির মধ্যেই এটাকে মিশ্রিত করেছে। মহামতি কার্ল মার্ক্সও আলাদা করে নারী মুক্তি নিয়ে আলোচনা করেননি।
আলাদা করে নারীবাদ নিয়ে আলোচনা করা পশ্চিমা আধিপত্যবাদী জ্ঞানতত্ত্বের অংশ। পশ্চিমারা নারীকে আগে নিষ্পেষিত করেছে তারপরে উদ্ধারের নামে পণ্যায়িত করেছে এবং সর্বশেষ নারী ও নারীবাদকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
নারী দিবসও পশ্চিমাদের সেই জ্ঞানতত্ত্বীয় সাম্রাজ্যবাদী কার্যক্রমেরই একটি অংশ। সেই হিসেবে নারী দিবস নিয়ে আলোচনা করার কিছু নেই।
আমরা নারীকে নারী হিসেবে কখনোই বিবেচনা করি না।
তাদের কেউ আমার মা। যার পায়ের নিচে আমার জান্নাত। যার সন্তুষ্টির জন্য আমি আমার জীবন বাজি রাখি।
তাদের কেউ আমার বোন বা ভাগ্নি। যার অস্তিত্ব আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময়তার কারণ। যার স্নেহ এবং যার প্রতি আমার স্নেহ আমাকে স্বর্গীয় অনুভূতি দেয়।
তাদের কেউ আমার স্ত্রী। যিনি আমার অর্ধাঙ্গি।
তাদের কেউ আমার কন্যা বা ভাতিজি। যার হাসিতে আমার জীবন ধন্য হয়, যার কান্নাতে আমার ধরনী কেঁপে ওঠে।
তাদের কেউ আমার খালা, ফুফু, মামি, চাচি বা ভাবি। তাদের অস্তিস্ত আমার জীবনকে অর্থবহ করে।
আর তাদের সবাই সম্মিলিতভাবে আমার মর্যাদার অংশ। যাদের কেউ সন্মানহানীর শিকার হলে আমি যুদ্ধ পর্যন্ত করতে রাজি আছি।
তারা আমার দ্বারা সুরক্ষিত আমিও তাদের দ্বারা সুরক্ষিত। আমি তাদের ওপরে নির্ভরশীল তারাও আমার ওপরে নির্ভরশীল। আমি কখনো তাদেরকে “তারা” (Others)বলে ভাবতে শিখিনি। বরং আমরা “আমরাবোধ” (we-feelingness ) নিয়েই বড় হয়েছি। আমার আর আমার বোনের স্বার্থ নিয়েই “আমার স্বার্থ” বিবেচনা করেছি। এভাবেই আমাদের নারীদের স্বার্থকে আমরা কখনোই আলাদা বলেই ভাবতে পারিনি। সাংঘর্ষিক ভাবা তো দূরের কথা।
অথচ পশ্চিমারা নারী অধিকার বলে পুরুষের অধিকার আর নারীর অধিকারকে প্রথম আলাদা করছে পরে উভয় অধিকারের মাঝে সংঘর্ষ তৈরি করছে।
আমরা মুসলমানেরা বিষয়টা অনেকদিন বুঝেই উঠতে পারিনি। আমার ডান হাত আর বাম হাতের আলাদা করে কোন স্বার্থ হয় কি? ডান চোখের স্বার্থ আর বাম চোখের স্বার্থের মাঝে সংঘর্ষ কল্পনা করা যতটা কঠিন তেমনি আমাদের প্রাচ্য সমাজে নারী আর পুরুষ স্বার্থের মাঝে সংঘর্ষ কল্পনা করা কঠিন ছিলো।
এতোদিনে এসে পশ্চিমাদের এইসব অপচেষ্টার প্রভাব আমাদের সমাজে পড়েছে। ফলে আমাদের সমাজের অভ্যন্তরে নানা অশান্তি তৈরি হচ্ছে। সেই অশান্তিগুলো দূর করতে আমাদেরকে ইসলামের মর্ম বুঝতে হবে এবং মান্য করতে হবে।
লেখক : শিক্ষক ও রাজনীতিক


