হোসাইন আহমদ মাদানীর জীবনীতে পরম ভালোবাসা
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানীর জীবনী যত পড়ি, তত আভিভূত হচ্ছি আমি। হয়রান হয়ে যাচ্ছি। এর আগেও বহুবার কুতুবুল আলম সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানীর জীবন চরিত পড়েছি। তবে এখনকার মত এত আবেগ-প্রবণ হয়নি কখনো।
মাদানী সাহেবের জীবনীর যে অধ্যায় পড়ি, সে অধ্যায় আমাকে বিস্মিত করে ফেলছে। অবাক হয়ে শুধু পড়েই যাচ্ছি।
তাঁর জীবনীর প্রতিটি পদে পদে রয়েছে ভিন্ন স্বাদ। যত পড়া হয়, মনে হয় আরো সামনে যাই। এক নতুন নতুন বিস্ময়ের সৃষ্টি হচ্ছে।
এক সময় আমার ধারণা ছিল, মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, একজন মর্দে – মুজাহিদ আলেম, একজন খ্যাতিমান মুহাদ্দিস, একজন সমাজ সংস্কারক, শুধু এসব গুনাবলী তাঁর মধ্যে ছিল। কিন্তু তিনি ইলমে তাসাউফের এক মহান সাধক ছিলেন এবং এ জগতের এক বড় সম্রাট ছিলেন, এটা আমার কোন দিন জানা ছিল না।
সত্যি আমি ভাবতাম, সাইয়্যেদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.-এর শিষ্যদের চোখেই মনে হয় তিনি বড় কামেল শখছিয়াত ছিলেন। ভক্তরা হয়ত একটু বাড়ায়ে লিখেছেন।
আমি এ কথাও জানতাম না, মাদানী সাহেব কুতুবুল আকতাব রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী রহ. এর আজাল্লে দরজার খলিফা। আমার কাছে মনে হত, মাদানী সাহেব রাজনীতির কারণে ইলমে তাসাউফের মেহনতে হয়ত সময় দিতে পারেন নি। হতে পারে তিনি সাধারণ মানের খলিফা।
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, সাইয়্যেদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. তিনি কত সুউচ্চ মর্যাদার মানুষ, সুলুকের লাইনে যে তাঁর কত উচ্চতায় বিচরণ, আমি তো শুধু পড়তে পড়তে হয়রান হচ্ছি।
একজন জগত বিখ্যাত মুহাদ্দিস, রাজনীতির ময়দানের অবিসংবাদিত নেতা, সেই মহান ব্যক্তি আবার বিশ্ব ওলী। ইলমে তাসাউফের সর্বোচ্চ মাকামে অধিষ্ঠিত। যেটা কল্পনা করা যায় না।
আমাদের এই উপমহাদেশের বড় বড় কামেল ব্যক্তিদের হযরত মাদানী রহ.-এর কামালিয়্যাত, বুজুর্গি সম্পর্কে যে সব অভিমত দিয়েছেন, সেগুলো পড়ে তো আরো অবাক হয়ে গেলাম। কেমন ব্যক্তি ছিলেন মাদানী? কত উঁচু দরজার ওলী ছিলেন তিনি।
হযরত সাইয়্যেদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.- এর সম্পর্কে বিভিন্ন বুজুর্গদের অভিমত। যা নিম্নে উল্লেখ করছি।
# কুরআন মজীদ হাতে নিয়ে বলছি, বর্তমান ভুপৃষ্টে ইত্তেবায়ে সুন্নাত, রিয়াযাত- মুজাহাদা, ইবাদত- বন্দেগীতে মাওলানা মাদানীর সমকক্ষ আর কেউ নাই।(পীর গোলাম মুজাদ্দিদ (রহ.)
# আমি চিন্তিত ছিলাম, আমার পরে বাতেনী দুনিয়া কে আবাদ রাখবে? কিন্তু আমার ভাই হুসাইন আহমদ মাদানীর দিকে তাকিয়ে সে চিন্তা দূর হয়ে গেল।( আশরাফ আলী থানভী (রহ.)
# কিছুকাল পরে তাকিয়ে দেখি, মাওলানা মাদানীর কদম মোবারক যেখানে, সেখানে আমাদের মাথাও পৌঁছাতে পারেনি- রায়পুরী রহ.
# যে সাগরের এক ঢোক পানি পান করে হজম করা দুঃসাধ্য, হযরত মাদানী সে রকম সাত সাগরের পানি পান করে একটা ঢেঁকুরও তুলছেন না।-হযরত ইলিয়াছ রহ.
# আমি হযরত মাদানীর আধ্যাত্মিকতার কোন কুল কিনারা পাইনা।-জাকারিয়া রহ.
# আমার জানা মতে বর্তমানে ভূ-পৃষ্ঠে হযরত মাদানী অপেক্ষা শরীয়ত, তরিকত ও হাকীকতের বড় আলেম নেই। -শাব্বীর আহমদ উসমানী রহ.
মাদানী রহ.-এর বুজুর্গি সম্পর্কে আরো বহু বুজুর্গের অভিমত রয়েছে, যে গুলো শুনলে আরো অবাক হতে হয়। শুধু নির্বাক হয়ে থাকতে হয়।
বহু মনিষীদের বানী রয়েছে মাদানী সাহেব এর ব্যাপারে। আসলে এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তাঁর মধ্যে চতুর্মুখি গুনাবলীর সমাবেশ ছিল।
বর্তমান সময়ে আমাদের এক বিষয়ে আছে তো আরেক বিষয়ে নেই। একদিকে আমরা হিরো আর অন্য দিকে জিরো।
কিন্তু মাওলানা মাদানী সর্ব দিকে হিরো ছিলেন। যেরকম আলেম, সেরকম রাজনীতি বিদ, সেরকম মুজাহিদ আবার তিনি ছিলেন কুতুবুল আলম। বিশ্ব ওলী।
লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক


