১৫ বছরেও ভাগ্য ফেরেনি ইরাকিদের

১৫ বছরেও ভাগ্য ফেরেনি ইরাকিদের

ওয়ার্ল্ড ডেস্ক : ৯ এপ্রিল, ২০০৩। ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের পতনের দিন থেকে ১৫ বছর কেটে গেছে। তবে এখনও ভাগ্য ফেরেনি দেশটির নাগরিকদের। সাদ্দামের পতনের মধ্যদিয়ে উন্নত জীবনের যে স্বপ্ন তারা দেখেছিল, সময়ের পালাবদলে সে স্বপ্ন শুধু ফিকেই হয়েছে। সুখের বদলে তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়েছে দুঃখ-দুর্দশা।
বেশিরভাগ ইরাকির মুখে এখন এককথা- এক পা এগোতে গিয়ে পাঁচ পা পিছিয়েছে বাগদাদ।

এখন থেকে ১৫ বছর আগে ২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসন চালায় মার্কিন বাহিনী। রাজধানী বাগদাদে প্রবেশ করে মার্কিন সেনারা। তাই দেখে খুশিতে আত্মহারা হয়ে যান ইরাকি নাগরিক আবু আলি।
সাদ্দামহীন ইরাকের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ যেন ভেসে উঠেছিল তার দু’চোখে। তবে বছর যত গড়িয়েছে বঞ্চনা-হতাশা ছাড়া আর কিছুই জোটেনি তার ভাগ্যে। তার সবচেয়ে বড় কষ্ট, মার্কিন আগ্রাসনে তিন ছেলেকেই হারিয়েছেন তিনি।
তাদের ছবির দিকে তাকিয়ে তিনি এখন শুধুই অশ্র“ ঝরান। যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে ৬১ বছর বয়সী আলির চোখে-মুখে তা স্পষ্ট।

ট্যাক্সি চালিয়ে স্বল্প আয়ে সংসার চালাতেন আলি। স্বপ্ন দেখতেন, তিন ছেলের জীবন তার চেয়ে ভালো হবে। কিন্তু উন্নত জীবনের আশা তার ধুলোয় ঢেকে গেছে।
সাদ্দামের পতন তাকে কিছুই দেয়নি। বরং কেড়ে নিয়েছে তার তিন ছেলে। তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি কখনও আর ভালো হয়নি। জনগণের কথা কেউ ভাবে না। রাজনীতিকরা শুধু আসন জিততে চায়।’

বাগদাদ শহরের নাপিত কায়েস আল শরিয়া। সাদ্দামের বিশাল মূর্তির কাছেই ছিল তার দোকান। ইরাকের অন্যান্য যুবকের মতো সেসময় ২৭ বছর বয়সী কায়েস স্বপ্ন দেখতেন শিগগিরই জমকালো নাইটক্লাব আর রেস্তোরাঁয় ভরে যাবে বাগদাদ শহর।
স্বপ্ন আরও সচ্ছল জীবনের। ২০০৩ সালের ৯ এপ্রিল। সেদিন দোকানে যাননি তিনি। বাড়িতে বসেই টিভিতে দেখেন, সাদ্দামের মূর্তিটা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে মার্কিন সেনারা।

সেদিনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সাদ্দামের মূর্তির পতনের মধ্যদিয়ে পতন ঘটল বাগদাদ শহরের।’ তিনি বলেন, আমরা ভাবতাম নতুন জীবন পাব।
বিশ্ব ভ্রমণে বের হব আমরা। কিন্তু উন্নতি ও বিশ্বের কাছে আরও উন্মুক্ত হওয়ার বদলে ইরাকের নাগরিক জীবন এমন হয়েছে যেন এক পা এগিয়েছে কিন্তু পাঁচ পা পিছিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *