‌‌‘ক্যালিগ্রাফিশৈলীর চমকিত নাম শহীদুল্লাহ এফ বারী’

‌‌‘ক্যালিগ্রাফিশৈলীর চমকিত নাম শহীদুল্লাহ এফ বারী’

‌‌‘ক্যালিগ্রাফিশৈলীর চমকিত নাম শহীদুল্লাহ এফ বারী’

পাথেয় রিপোর্ট : সময়ের খ্যাতিমান প্রচ্ছদ ও ক্যালিগ্রাফি শিল্পী আরিফুর রহমান তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ওয়ালে প্রয়াত ক্যালিগ্রাফি শিল্পী শহীদুল্লাহ এফ বারীকে স্মরণ করেছেন। তিনি তার ওয়ালে লিখেছেন, শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী রহ.।

তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় বাইতুল মুকাররমের উত্তর গেটের কাছে ‘দারুল ফুনূন’-এ গিয়ে। এই আর্ট ফার্মের যুগপৎ স্বত্বাধিকারী এবং একমাত্র লিপিকলাশিল্পী তিনিই। তাঁর হাতের আরবি ক্যালিগ্রাফির পারঙ্গমতা দেখে দেখে আমার নিজের ক্যালিগ্রাফির দুর্বলতাগুলো বেশি করে বুঝি খুঁজে পেলাম। ঘনিষ্ঠতা বাড়লো আমাদের। আমি মুগ্ধ তাঁর ক্যালিগ্রাফির সৌন্দর্যে, শৈলীতে, আর তিনি চমকিত হলেন আমার কাজের রঙে, রঙের ব্যবহারে। তাঁর কথাটা এখনও কানে বাজে- আপনি দেবেন আমাকে রঙ, আমি দেবো আপনাকে ‘খত্ব’। এভাবেই আমরা একে অপরের গুরু-শিষ্য বনে গেলাম। একই মহল্লায় দুজনের বাসা হওয়ায় কতোদিন- বিশেষত তাঁর বাসায় ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়েছি আমরা ক্যালিগ্রাফি নিয়ে। কখনও তত্ত্বকথায়, কখনও হাতে-কলমে!

না, আমাদের এই উস্তাদ-সাগরিদ সম্পর্কের কোনও দলিল নেই, সার্টিফিকেট নেই। আর আমি তার প্রয়োজনও বোধ করি না। অন্তরের স্বীকৃতির চাইতে বড় কোন্ সার্টিফিকেট?

মহামহিম আল্লাহ প্রিয় আমার বারী ভাইকে জান্নাতুল ফিরদাউসের চিরস্থায়ী বাসিন্দা করে নিন।

প্রসঙ্গত, বিশিষ্ট ক্যালিগ্রাফার কোরআনে হাফেজ আলেমে দ্বীন আরবী ভাষার সুপণ্ডিত শহীদুল্লাহ এফ. বারী ২০১৬ সালের ১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে ইন্তিকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি ফজরের সালাতের পর মর্নিংওয়াক শেষে নয়াপল্টনের বাসায় এসে ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুমের মধ্যেই তিনি ইন্তিকাল করেন।

শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী ১৯৫৪ সালে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ শেষে সৌদি আরবে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য গমন করেন। সেখানে ক্যালিগ্রাফিতে ডিপ্লোমা এবং এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। আরবি ভাষা ও সাহিত্যে তার পাণ্ডিত্য ছিল শীর্ষ পর্যায়ের। এবিষয়ে তিনি কয়েকটি বই লিখেছেন।

এছাড়া ক্যালিগ্রাফিতে তার অবদান অবিস্মরণীয়। এ বিষয়ে হাতে-কলমে বই লিখেছেন। তার ছাত্ররা দেশে বিদেশে সুখ্যাতি পেয়েছে। তিনি ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসে সামরিক এটাচিতে কর্মরত ছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, পুত্র ও ২ কন্যা, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *