অবৈধ অভিবাসীদের লুকানোরও জায়গা রাখছেন না ট্রাম্প

অবৈধ অভিবাসীদের লুকানোরও জায়গা রাখছেন না ট্রাম্প

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রেসিডেন্ট পদের ক্ষমতা গ্রহণের পরই ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক পদক্ষেপ দেখছে বিশ্ব। এবার অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতারে যুক্তরাষ্ট্রের গির্জা ও স্কুলগুলোতে পুলিশি অভিযান চালানোর সম্মতি দিলেন তিনি।

এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ভারপ্রাপ্ত সচিব বেঞ্জামিন হাফম্যান বলেন, গ্রেফতার এড়াতে অপরাধীরা কোনভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে লুকাতে পারবে না। ট্রাম্প প্রশাসন কখনওই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত বেধেঁ রাখবে না। বাইডেনের চেয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্টের শাসনামল কিভাবে ভিন্ন হতে চলেছে তাই এখন দেখা যাবে।

এর আগে ২০১১ সালে সংবেদনশীল এলাকা থেকে অভিবাসীদের গ্রেফতারে বিরতি থাকার একটি নীর্তি নির্ধারণ করে অভিবাসন এবং শুল্ক বিভাগ। একই ধারা অব্যাহত রাখে বাইডেন প্রশাসনও।

ট্রাম্প তার উদ্বোধনী ভাষণে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ‘সমস্ত অবৈধ প্রবেশ বন্ধ করা হবে’ এবং লক্ষাধিক ‘অবৈধ অভিবাসী’ ফেরত পাঠানো হবে। তারই ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব নেয়ার পরই ওভাল অফিসে বসে অভিবাসন ঠেকাতে একের পর এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই জন্মগত নাগরিকত্বের সংজ্ঞা নির্ধারণের আদেশ থেকে শুরু করে অবৈধ অভিবাসন বন্ধে সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেন ট্রাম্প।

এর আগে ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল করা হয় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মোবাইল অ্যাপ সিবিপি ওয়ানের অ্যাপয়েন্টমেন্ট। এতে বিপাকে পড়েছেন এই অ্যাপে লগইন করা লাখ লাখ মানুষ। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী মেক্সিকোর বিভিন্ন শহরের অপেক্ষায় থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। এখন তাদের সামনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বৈধ কোনো উপায় নেই।

এক বছরের বেশি সময় ধরে মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর পিয়েদ্রাস নেগ্রাসে অপেক্ষায় হন্ডুরাসের অভিবাসনপ্রত্যাশী ডেনিয়া আলভারাডো। হত্যার হুমকি পেয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেয়ার প্রত্যাশা ছিল তার। কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি। যুক্তরাষ্ট্রে ফের ট্রাম্প জমানা শুরু হওয়ার পরই তার মোবাইল ফোনে সিবিপি ওয়ান অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করার ই-মেইল আসে।

আলভারাডোর মতো মেক্সিকো সীমান্ত শহর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার প্রত্যাশায় থাকা লাখ লাখ মানুষের মাথায় বাজ পড়েছে এমন একটি ইমেইলে। প্রতিদিন অন্তত ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ এই অ্যাপে লগইন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ পেতেন। সবার একই দুর্দশা। এখন তাদের সামনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের কোনো বৈধ উপায় নেই।

মূলত সিবিপি ওয়ান অ্যাপটি বাইডেন প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ কমানোর জন্য চালু করা হয়েছিল। এই অ্যাপটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য আবেদন করতে পারতেন অভিবাসীরা। তবে অ্যাপটির প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং দীর্ঘ সময় লাগার কারণে এটি নিয়ে সমালোচনাও ছিল।

Related Articles