৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে প্রশ্নের মুখে কোহলির অধিনায়কত্ব

অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে প্রশ্নের মুখে কোহলির অধিনায়কত্ব

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিরিজ হেরে দারুণ প্রশ্নের মুখে পড়েছেন বিরাট কোহলি। এ বিষয়ে মতামতও দিয়েছেন অনেকে। শ্রীলংকার কিংবদন্তি মুত্তিয়া মুরালিধরন অবশ্য বিরাট কোহলির অধিনায়কত্বে আস্থা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দলের প্রতি অনাস্থা পোষণ করা যাবে না। বেশ কিছুদিন যাবত ভালো খেলছে ভারত। আসন্ন বিশ্বকাপের কথা ভেবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেই হবে।

পাঁচ ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুইটিতে জিতে অস্ট্রেলিয়াকে নাকানি চুবানি দিয়ে রেখেছিল বিরাট কোহলির দল। শেষ পর্যন্ত পরের তিন ম্যাচেই আর বিরাটরা দাঁড়াতেই পারেনি। শেষের ম্যাচে তো অস্ট্রেলিয়া দারুণভাবে জিতেছে। অজি ছোট ছোট গায়ে গতরে কম বয়সি প্লেয়ারদের কাছে শেখর ধাওয়ানরা দাঁড়াতেই পারেনি। লড়াই করেছে কেদার যাদব আর বোলার ভুবনেশ্বর কুমার।

এদিকে মোহালিতে ৩৫৮ রান করেও জিততে পারেনি ভারত। ওই হারের পর থেকেই সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছেন কোহলি। তার ফিল্ডিং সাজানো ও বোলার পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মাঠে এ দৃশ্য ভুলবার নয়, দলের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে (টার্নিং পয়েন্ট) বিরাটকে করণীয় নিয়ে পরামর্শ দেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। অনেকে, এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের অনুপস্থিতিতে বর্তমান ভারতীয় অধিনায়কের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সর্বকালের সেরা অফস্পিনার মুরালিধরন বলেন, সাফল্যের পথে ব্যর্থতা থাকবেই। কারণ, একই দলে ১১ জন কোহলি থাকতে পারে না। দলের প্রত্যেকে ম্যাচ উইনার হতে পারেন না। ফর্মের তুঙ্গে থাকা দলও কিছু ম্যাচ জিতবে আবার কয়েকটি হারবে-এটাই নিয়ম। সব ম্যাচ জিততে হলে দলে ১১ জনই কোহলি, শচীন বা ডন ব্র্যাডম্যান থাকতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আদৌ কি কী তা সম্ভব? প্রশ্ন ছুড়ে দেন মুরালিধরন।

এটা কারও আর জানতে বাকি নেই শেষ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতল অস্ট্রেলিয়া। অথচ শুরুতে ২-০তে এগিয়ে ছিল ভারত। এ নিয়ে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর ওয়ানডে সিরিজও অজিদের কাছে হারল টিম ইন্ডিয়া। ১০ বছরে যা প্রথম।

কিন্তু সিরিজ শুরুর আগে ফেভারিট ছিলেন স্বাগতিকরা। তবে কেন এ ভরাডুবি? এ প্রশ্নের উত্তর বিশ্লেষণের প্রয়াস চালানো হলো-

• গেল জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া থেকে সিরিজ জিতে এসেছে ভারত। তিন ম্যাচ সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতে কোহলি বাহিনী। সঙ্গত কারণে ঘরের মাঠে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তারা। নিজ দুর্গে অজিদের সহজেই হারাতে পারব এ চিন্তাভাবনা বুমেরাং হতে পারে।

• ওই সিরিজ হারের পর অস্ট্রেলিয়াকে ধুয়ে দেন ভারতীয় কিংবদন্তিরা। খোদ সাবেক ভারতীয় ওপেনার বীরেন্দ্র শেবাগ অজিদের প্রসব করা বাচ্চাদের সঙ্গে তুলনা করেন। জবাবে দেখিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন সাবেক অস্ট্রেলিয়া কিংবদন্তি ম্যাথু হেইডেন। স্বাভাবিকভাবেই জিততে মরিয়া ছিল অস্ট্রেলিয়া।

• এ সিরিজে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারে চার নম্বরে কেউ জ্বলে উঠতে পারেননি। ব্যর্থ হয়েছেন আম্বাতি রায়ডু ও রিশভ পন্ত। ব্যাটিং ইনিংসে এ জায়গাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিপর্যয় কাটিয়ে দলের হাল ধরা, লক্ষ্যে নিতে এ মিডল অর্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে এখানে মুখ থুবড়ে পড়েছে ভারত।

• বল হাতে কুলদীপ যাদব ও যুজবেন্দ্র চাহাল হয়েছেন সুপার ফ্লপ। তাদের লেগস্পিন, গুগলি, আর্ম বল কিছুই কাজে আসেনি। অতীতে বিদেশের মাটিতে পেস সহায়তা উইকেটেও ভালো পারফরম করেছেন তারা। সেখানে স্পিনবান্ধব ঘরের উইকেটে যাচ্ছেতাই অবস্থা। বিশ্লেষকরা বলছেন, ওদের বোলিং রহস্য ভেদ করে ফেলেছেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানরা।

• অস্ট্রেলিয়ার নাথান লায়ন ও অ্যাডাম জাম্পা ছিলেন দুর্দান্ত। দুজনের অফস্পিন-লেগস্পিন কম্বিনেশনে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। অফ ব্রেক খেলার পর লেগ ব্রেকে ভুগেছেন। উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন।

• প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই দুর্দান্ত খেলেছে ভারত। তবে ফিনিশিং টানতে পারেননি কেউ। দারুণভাবে একজন দক্ষ ফিনিশারের অভাববোধ করেছেন স্বাগতিকরা।

• টুর্নামেন্টজুড়ে উসমান খাজার দানবীয় ব্যাটিং ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে ভারতকে। অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ জেতানোর নেপথ্য নায়ক তিনিই। পাশাপাশি টার্নারসহ তরুণরা দারুণ ব্যাটিং করেছেন। ডেথ কিংবা স্লগ ওভারে পেস তোপে ভারতীয়দের কাবু করেছেন প্যাট কামিন্স।

• পক্ষান্তরে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি ভারতীয় পেস আক্রমণের দুই কর্ণধার জাসপ্রিত বুমরাহ ও ভুবনেশ্বর কুমার। প্রথম দুই ম্যাচে কিছুটা ভালো করলেও শেষ দিকে তাদের সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সময়মতো তাদের ইয়র্কার, সুইং কাজ করেনি।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com