২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৬শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

অহংকারীর শাস্তি আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেই দিয়ে থাকেন : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অহংকারীর অহংকারের শাস্তি আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেই দিয়ে থাকেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) ইকরা বাংলাদেশ ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।

দেহের মতো অন্তরেরও রোগ-ব্যাধি হয় উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের দেহের যেমন বিভিন্ন অসুখ হয়, তেমনি অন্তরেরও রোগ-ব্যাধি হয়। দেহের অসুখের ক্ষেত্রে যেমন চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে, অন্তরের রোগের ক্ষেত্রেও আরও বেশি চিকিৎসার দরকার হয়। কারণ অন্তরের অসুস্থতা দেহের বাহ্যিক রোগ-ব্যাধির চেয়েও মারাত্নক ও ভয়ঙ্কর।

অন্তরের মারাত্নক ব্যাধিসমূহেরর কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, দেহের মারাত্নক ব্যাধি যেমন ক্যান্সার, তেমনি অন্তরের মারাত্নক ব্যাধি হলো অহংকার। একবার কারও অন্তরে এই ব্যাধি প্রবেশ করলে দ্রুত এর নিরাময় করা আবশ্যক। কারণ এই অহংকার নামক ব্যাধি আস্তে আস্তে ব্যাক্তির ঈমান আমল সব কিছু ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু আফসোসের কথা হলো, আমরা এই ব্যাধির চিকিৎসা না করে লালন-পালন করি।

আরও পড়ুন: ‘প্রকাশ্য আমলের মাধ্যমে কাউকে নিশ্চিতভাবে জান্নাতি বলা যায় না’

দুনিয়াতেই আল্লাহ তাআলা অহংকারীর বিচার করেন জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, দুনিয়াতে আল্লাহ তাআলা অনেক গুনাহের শাস্তি দেন না। কুফুরীর মতো মারাত্নক গুনাহের শাস্তি কোনও কোনও সময় দুনিয়াতে না দিয়ে আখিরাতের জন্য রেখে দেন। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর প্রত্যেক অহংকারীর শাস্তি দুনিয়াতেই দিয়েছেন। এর কারণ অহংকার হলো আল্লাহ তাআলার চাদর, অহংকার করা মানে আল্লাহর চাদর নিয়ে টানাটানি করা। তাই কেউ অহংকার করলে আল্লাহ তাআলা প্রচন্ড রাগ হোন। এবং আল্লাহর সাথে এই বেয়াদবির কারণে দুনিয়াতেই অহংকারীর শাস্তি দিয়ে থাকেন।

ইবলিশের অভিশপ্ত হবার প্রধান কারণের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইবলিশ শয়তান আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে বড় ইবাদাতকারী ছিলো। কিন্তু সে অহংকার করেছে। অহংকারের পর তার উচিত ছিল আল্লাহ তাআলার কাছে মাফ চাওয়া। কিন্তু সে মাফ না চেয়ে উলটো যুক্তি দাড় করালো। আর এ কারণেই আল্লাহ তাআলা চিরদিনের জন্য তাকে অভিশপ্ত বানিয়ে দিলেন। ভাইয়ো, এখন আমরাই ঠিক করি অহংকার করে কি আমরা অভিশপ্ত হবো? নাকি এই ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ করে জান্নাতি হবো।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com