২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

আইআরজিসির পক্ষে কাতার, তুরস্ক, ইরাক ও চীন, যুক্তরাষ্ট্রকে নিন্দা

আইআরজিসির পক্ষে কাতার, তুরস্ক, ইরাক ও চীন, যুক্তরাষ্ট্রকে নিন্দা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করায় যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা করেছে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, ইরাক, সুপার পাওয়ার এশিয়ার চীন এবং এরদোগানের তরুস্ক। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করায় এই নিন্দা জানায়।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেন, আমেরিকার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন বহির্ভূত এবং এর ফলে এ অঞ্চলে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে। চাভুসওগ্লু মার্কিন সিদ্ধান্তকে একপেশে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোনো দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে সন্ত্রাসী বলাকে আমরা সমর্থন করি না; একইভাবে একতরফা কোনো সিদ্ধান্তও সমর্থনযোগ্য নয়।

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুর রহমান আলে সানিও মার্কিন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, অন্য দেশের সশস্ত্র বাহিনীর আচরণের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ প্রকৃতপক্ষে সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখবে না।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল মাহদি বলেছেন, মার্কিন সিদ্ধান্তের ফলে ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং এ অঞ্চল আরো অস্থিতিশীল হবে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মার্কিন সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী জর্দানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ও মিশর সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের সংঘাত সবার জন্য ক্ষতি ডেকে আনবে।

এর আগে ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনী সেন্টকমের কমান্ডার কেনেথ ম্যাকেঞ্জির সঙ্গে আলাপ করেন এবং উত্তেজনা কমানোর ব্যবস্থা নিতে বলেন। ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাশ্‌দ আশ-শাবিও মার্কিন পদক্ষেপের নিন্দা করেছে।

এদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু ক্যাং গতকাল বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে বলদর্পিতা ও ক্ষমতার রাজনীতির পরিবর্তে সব দেশের মৌলিক দিক-নির্দেশনা ও নীতিমালা মেনে চলা উচিত। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য বাইরের শক্তিগুলো আরো গঠনমুলক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা করেন।

এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা রক্ষায় রিয়াদের ভূমিকা, ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন সৌদি যুবরাজ।

হোয়াইট হাউসের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন তথ্য জানিয়েছে। নারী অধিকারকর্মীদের বিচার, সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডসহ অভ্যন্তরীণ ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনপীড়ন ও ইয়েমেন যুদ্ধ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র সৌদি ব্যাপক চাপে রয়েছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com