আত্মা কি অবিনশ্বর?
মুস্তাফা জামান আব্বাসী : তোমাকে ওরা আত্মা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, বল, আত্মা আমার প্রতিপালকের আদেশ বিশেষ [বা আদেশঘটিত]। আর এ বিষয়ে তোমাদেরকে সামান্যই জ্ঞান দেয়া হয়েছে।
আত্মা সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত সংগ্রহ করার প্রয়াস পেয়েছি। তাতে দেখা যাচ্ছে সবই অপরিজ্ঞেয় অর্থাৎ এর কোন শুরুও নেই, শেষও নেই। যেই তিমিরে আমি, সেই তিমিরে তুমি। তবে কুরআনে আল্লাহ্ বলেছেন, তিনি নিজের আত্মাকে আমার মধ্যে ফুঁকে দিয়েছেন। বাংলায়: স্মরণ কর যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশ্তাগণকে ডেকে সুধালেন। যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং ওতে আমার আত্মাকে ফুঁকে দেব, তখন তোমরা ওকে সিজ্দা করবে [১৫: ২৮-২৯]।
তা হলে এ বিষয়ে সন্দেহ রইল না যে হজরত আদম [আ] তার পবিত্র হাতে সৃষ্টি এবং আদমের আত্মায় আল্লাহ্ তার নিজ আত্মা ফুঁকে দিয়েছেন। যদিও কর্দম থেকে উৎপত্তি, তবু শরীরে নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ শিরা-উপশিরা মস্তিষ্ক প্রবাহ প্রমাণ করে [তাফসিরে সা’ল তুশ্তারি] যে অনেক ফেরেশ্তা আমাদেরকে ঘিরে আছে। শুধু আমাদের বিশ্বাসটুকুই নড়বড়ে]
কেউ কেউ বলেন, আত্মাই মাখলুক অর্থাৎ সৃষ্ট। এটা আহলুস সুন্নাত আল জামাতের অভিমত। আত্মাসমূহ সমাবিষ্ট বাহিনী। কেউ কেউ বলেন, আত্মা মহান আল্লাহ্র নূর ও হায়াত বিশেষ। খ্রিষ্টানদের একটি দল ঈসা ও মরিয়ামকে পূজা করে। তাদের মতে ঈসা [আ] আল্লাহ্র আত্মা বিশেষ, যা মরিয়ামের গর্ভে আবির্ভূত হয়েছে। আল্লাহ্ সমস্ত মাখলুকাতকে মানবের অধিনস্ত করে দিয়েছেন। এখানে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব।
আজ এই পর্যন্তই। আত্মা সম্পর্কে অনেক বলার আছে।
মু. জা. আ.
১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৬


