২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

আমরা এখনো নিউজিল্যান্ডকে ভালোবাসি :আক্রান্ত মসজিদের ইমাম

আমরা এখনো নিউজিল্যান্ডকে ভালোবাসি :আক্রান্ত মসজিদের ইমাম

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশকে মুসলমানগণ ভালোবাসে, মুসলমান কখনোই দেশদ্রোহী নয়। সেকথারই আবার প্রমাণ দিলেন নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় আক্রান্ত মসজিদের ইমাম ইব্রাহিম আব্দুল হালিম। তিনি শনিবার বলেছেন, হামলাসত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের প্রতি মুসলিম সম্প্রদায়ের ভালবাসা কমবে না।

এক বন্দুকধারী যখন ক্রাইস্টচার্চের ওই মসজিদে সেমি-অটোমেটিক অস্ত্রের সাহায্যে হামলা চালাচ্ছিল তখন তিনি সেখানে নামাজের ইমামতি করছিলেন।
নিউড মসজিদের ইমাম হালিম বলেন, আমরা এখনো এই দেশকে ভালবাসি।

তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, চরমপন্থীরা কখনোই আমাদের আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরাতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে মুসল্লিদের ওপর স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে হামলা চালান ব্রেনটন। অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে বেঁচে যান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। কাছাকাছি লিনউড মসজিদে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। আল নুর মসজিদে ৪১ জন ও লিনউড মসজিদে সাতজন নিহত হন। একজন হাসপাতালে মারা যান।

এর আগে ২৮ বছর বয়সী ওই হামলাকারীকে সাদা রংয়ের কয়েদীদের পোশাকে এবং হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় আদালতে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্ডান বলেন, এই হামলা ছিল একটি উগ্র-সন্ত্রাসবাদী হামলা এবং প্রধান সন্দেহভাজন হামলাকারীর আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল।

তিনি আরও বলেন, ওই ব্যক্তি ছাড়া আরও দু’জন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। আটকদের কারো বিরুদ্ধে কোন অপরাধের রেকর্ড নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে জুম্মার নামাজরত শতশত মুসুল্লির ওপর ওই হামলা চালায় সশস্ত্র বন্দুকধারী। ওই হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৮ জন। নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তবে বাংলাদেশ, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে যে, নিহতদের মধ্যে তাদের নাগরিকরাও রয়েছেন।

হামলার পর থেকেই ক্রাইস্টচার্চে ব্যাপক নিরাপত্তা বিরাজ করছে এবং পুরো দেশজুড়ে সকল মসজিদ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা বলেছেন, মসজিদের হামলার এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তির পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং একটি লাইসেন্স ছিল। হামলার ঘটনার একদিন পর তিনি জানিয়েছেন, দেশের অস্ত্র আইন বদলানো হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা হামলার শিকার দুটো মসজিদ থেকেই গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে এবং সন্দেহভাজন একজনের গাড়ির ভেতর বিধ্বংসী ডিভাইস পাওয়া গেছে।

জাসিন্দা আর্ডান সাংবাদিকদের বলেন, হামলাকারীর বন্দুকের লাইসেন্স ছিল এবং সেটি ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে নেয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তি বলেছে সে, ২০১৭ সালে ইউরোপ ভ্রমণের পর থেকে এই হামলার পরিকল্পনা করছিল।

মাথায় স্থাপন করা ক্যামেরা দিয়ে পুরো হামলার ঘটনা সরাসরি ইন্টারনেটে প্রচার করছিল ২৮ বছর বয়সী ওই হামলাকারী। সে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।

ফুটেজে দেখা যায় সে নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। বন্দুকধারী এরপর প্রায় ৫ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে আরেকটি মসজিদে গিয়ে হামলা চালায় বলে খবর পাওয়া গেছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com