আমাকে খেলাফত দেয়ায় অনেকেই নাখোশ হন : আল্লামা মাসঊদ

আমাকে খেলাফত দেয়ায় অনেকেই নাখোশ হন : আল্লামা মাসঊদ

আমাকে খেলাফত দেয়ায় অনেকেই নাখোশ হন : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : শায়খুল ইসলাম সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহঃ এর সুযোগ্য সাহেবজাদা ফেদায়ে মিল্লাত সায়্যিদ আস’আদ মাদানী রহঃ থেকে চিশতিয়া নক্বশবন্দীয়া ক্বাদেরিয়া সোহরাওয়ার্দীয়া তরীক্বার খেলাফত লাভের স্মৃতিচারণ করেছেন আল্লামা ফরীদ ঊদ্দীন মাসঊদ।

৩ জুন সোমবার রাজধানীর হাজীপাড়া ঝিল মসজিদে ই’তেক্বাফকারীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ নসীহত করার সময় তিনি বলেন, আমি মাত্র একমাস সময় হযরতের সান্নিধ্যে রেয়াসত, মুজাহাদার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে নিমগ্ন থেকে খেলাফত লাভ করি। তিনি ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। সাধারণত যাদের বায়আত করতেন তাদের মধ্যে যাদের ইসলাহের (আত্মশুদ্ধি) শওক্বের হাল হতো তাদের খেলাফতও এজাজত প্রদান করতেন। আমাকে খেলাফত দেওয়ায় হযরতের বাংলাদেশি মুরীদানদের অনেকে নাখোশ হন। তারা হযরতের নিকট আমাকে খেলাফত দেওয়ার প্রতিবাদ করে দরখাস্ত পেশ করেন। যেখানে অনেক বড় বড় প্রসিদ্ধ আলেম উলামার দস্তখতও ছিল। কিন্তু, দরখাস্ত দেখে হুজুর বললেন,”কিয়া বাত হে?” অতঃপর হাত দিয়ে মুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে বললেন,আওর কুয়ী বাত হে? তারা বললেন, নেহী। সাধারণত মুরীদানদের উচিৎ নিজ শায়েখের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা। দ্বিমত করা শিষ্টাচার বহির্ভূত।

তিনি খেলাফতের বিষয়ে সারগর্ভ আলোচনা করে বলেন, খেলাফতের রহস্য বোঝা কঠিন। পরিশ্রম ও যোগ্যতার দ্বারা হয় না। মাদানী সিলসিলায় বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী কাজ করে গেছেন মাওলানা শামসুদ্দীন কাসেমী রহ.। অথচ, তিনি খেলাফত পাননি। অপরদিকে থানভী সিলসিলায় সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন শামছুল হক্ব ফরীদপুরী রহ.। তিনিও খেলাফত পাননি।

খেলাফত লাভই প্রকৃত বিষয় নয় উল্লেখ করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, তাসাউফের লাইনে খেলাফত লাভ করা মূল বিষয় নয়। বরং, ইসলাহ (আত্মশুদ্ধি) হলো মূল। খেলাফত কামনার জন্য বায়আত হওয়া মুশরিকি কাজ। বরং, বায়আতের উদ্দেশ্য হতে হবে “মুতমাইন্ন” হাসিল করা।

আল্লামা মাসঊদ ই’তেক্বাফকারীদের নসিহত পেশ করে বলেন, আল্লাহর হুকুম পালনের ক্ষেত্রে রাসূল সাঃ কে অনুসরণ করার কোন বিকল্প নেই। আর, রাসূল সাঃ কে অনুসরণ করার মাধ্যম হলো সাহাবায়ে কেরাম। আর, সাহেবায়ে কেরামের অনুসরণের মাধ্যম হলো তাবেঈন। এভাবে একটি সূত্র ধরে যুগ পরম্পরায় চলে আসছে। মওদূদী এই সূত্র কেটে দিয়ে পথভ্রষ্ট হয়েছিল। আমাদের এই সূত্র মেনে বুজুর্গদের অনুসরণ করার কোন বিকল্প নেই।

তিনি ইতেক্বাফকারীদেরকে বিপদে আপদে আল্লাহর নেয়ামতের দিকে লক্ষ্য করে আল্লাহর বেশীবেশী শুকরিয়া আদায় করার প্রতি জোর দেন এবং ধৈর্য ধারণ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
গ্রন্থনা : আহমাদ কাশফি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *