অশ্লীল সিনেমা পোস্টার প্রদর্শনী বন্ধ হোক
আহমাদ কাশফী : ঈদ মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান । বছরের দুইবার “ঈদুল ফিতর”ও “ঈদুল আজহা” নামে সারা বিশ্বের মুসলমানগন দুটি পবিত্র ধর্মীয় উৎসব পালন করে থাকে। রাসূল সাঃ যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনায় গেলেন। তখন দেখলেন মদীনার লোকেরা “মিহিরজান “ও “নওরোজ” নামে দুটি উৎসব পালন করে। তিনি তাদের কে বললেন, তোমরা এ দুটি দিনে উৎসব পালন কর কেন? তারা বললো,আমরা ইহুদী থাকাকালে এই দুটি উৎসব পালন করতাম। অতঃপর, তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা এই দুটি দিনের পরিবর্তে তোমাদের কে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা নামে দুটি উৎসবের দিন দান করেছেন।(সহীহ মুসলিম)
অপর এক হাদীসে এসেছে, রাসূল সাঃ বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা ঈদের নামাজ পড়ার সাথে সাথে বান্দার সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেন। (বুখারী)
ঈদ আমাদের কে পরস্পরে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে সমাজ গঠনের শিক্ষা দেয়। মুসলমানগন এ দুটি পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শরীয়ত সমর্থিত সব ধরনের আনন্দ-ফূর্তি করতে পারবে। তবে, শরীয়ত বহির্ভূত কোন কাজে লিপ্ত হওয়াকে ইসলামী শরীয়তে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় হলেও সত্য যে, আজ আমরা পবিত্র উৎসবের দিনে গুনাহ ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হচ্ছি। সমাজের একশ্রেণীর মন্দ লোক আমাদের পবিত্র ঈদের দিনেও গুনাহের কাজের দিকেই আকৃষ্ট হওয়ার প্রতি আহ্বান করছে। ঈদকে কেন্দ্র করে পাবলিক টেলিভিশনগুলোতে বেড়ে যাচ্ছে অশ্লীল নাটকের সম্প্রচার। সিনেমাহল গুলোতে চলছে কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল এমনকি উলঙ্গপনা নারীদের দ্বারা নির্মিত সিনেমা। যা মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় উৎসব কে করছে কলুষিত।
অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গর্হিত বিষয় হলো, যারা এসব অশ্লীলতা থেকে বেঁচে থাকতে চান। তাদের জন্যও প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে রাস্তার মোড়ে মোড়ে অর্ধনগ্ন যুবতী মেয়েদের ছবি সম্বলিত অশ্লীল সিনেমার বড়বড় পোস্টার। পবিত্র রমজান মাসেও মানুষ এর থেকে রেহাই পায়নি। ঈদকে কেন্দ্র করেও প্রতিবছর তোড়জোড় আরো বেড়ে যায়। এতে করে মুসলমানদের পবিত্র এ দিনগুলোকে কলুষিত করা এবং গুনাহের কাজের প্রতি প্রলুব্ধ করা হচ্ছে।
ধর্মবান্ধব মাননীয় সরকার ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি আমাদের আকুল আবেদন এই বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি দিন এবং শীঘ্রই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
লেখক : শিক্ষার্থী, কওমী মাদরাসা


