আরব উপদ্বীপ জাযীরাতুল আরব

আরব উপদ্বীপ জাযীরাতুল আরব

ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ : পশ্চিমে লোহিত সাগর ও ভূমধ্য সাগর, দক্ষিণে ভারত মহা সাগর ও আরব সাগর, পূর্বে পারশ্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও দজলা নদী, উত্তরে আকাবা উপসাগর থেকে আরব ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী মরুভূমি ফুরাত নদীর শাতীল আরবের মোহনা পর্যন্ত পর্বতাকীর্ণ ও মরুময় অঞ্চলটি জাযীরাতুল আরব নামে প্রসিদ্ধ।

মুসলিম প-িতদের ভাষ্যানুযায়ী অঞ্চলটি পাঁচ ভাগে বিভক্ত, ক. হেজায আয়লা থেকে ইয়ামন অবধি বিস্তৃত পাহাড়ী অঞ্চল। খ. তিহামা লোহিত সাগর উপকূলীয় বেলা ভূমি। গ. ইয়ামন আরবের দক্ষিণাংশ। ঘ. নজ্দ উচ্চমালভূমি হেজাযের পাহাড়সমূহ থেকে নিয়ে পূর্বে বাহরাইন পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল। ঙ. আরূদ পূর্বে বাহরাইন ও পশ্চিমে হেজায-এর মধ্যবর্তী অঞ্চলটি ইয়ামামা ও নজদের মধ্যে অবস্থিত বিধায় একে আরূদ বলা হয়। অঞ্চলটি ইয়ামামা নামেও প্রসিদ্ধ।

আরবের অধিবাসীগণ তিন শ্রেণির ছিল।

ক. আরাবুল বায়িদাহ, এরা সুপ্রাচীন অধিবাসী। বহু পূর্বেই এদের বিলুপ্তি ঘটে। দক্ষিণের আদ এবং উত্তরের ছামূদ জাতি এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
খ. আরাবুল আরাবিয়া, এরা আরাবুল বায়িদাহ-এর পরে আরবে বসতি স্থাপন করে। এরা আসিরয়ীদের কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে দক্ষিণের ইয়ামান এবং ক্রমে উত্তর দিকে সম্প্রসারিত হয়। আর বানুকাহতান খ্রিষ্টপূর্ব ২২০০ সাল থেকে মেসোপটেমিয়া থেকে বহির্গত হয়ে ইয়ামানে আধিপত্য স্থাপন করেছিল। মা’রাব ছিল এদের রাজধানী। সাবা সা¤্রাজ্য ছিল এদের প্রতিষ্ঠিত। মদিনার আওস ও খাসরাজ সম্প্রদায় এই কাহতানীদেরই বংশধর ছিলেন।

গ. আরব মুস্তারিবা হযরত ইসমাঈল আ.-এর বংশধরগণ। হযরত ইসমাঈল আ. পিতা হযারত ইবরাহীম আ.-এর সঙ্গে আল্লাহ পাকের নির্দেশে কা’বা শরীফ নির্মাণ করেন এবং কাহতান বংশীয় বনূ জাহম সম্প্রদায়ের সম্ভ্রান্ত সর্দার মিনাস ইবন আমরের কন্যাকে বিয়ে করে আমৃত্যু সেখানেই বসবাস করেন।

তৎপুত্র কিদার ও তার বংশধর গণ মক্কা ও পার্শ্ববর্তী হিজায অঞ্চলে বসবাস করতে থাকেন। এই কিদারের বংশে জন্মগ্রহণ করেন আদনান। আদনানের জনৈক বংশধর নাযর ইবন কিনানা বিচ্ছিন্ন ইসমাঈল আ.-এর বংশীয়দের একত্র করে মক্কায় এক জাতি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কুরাইশ (একত্রকারী) নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

এই বংশে হাশিম নামে খুবই তীক্ষ্ণধী, বাণিজ্যপটু, কূটনীতিজ্ঞ ও প্রভাশালী নেতার জন্ম হয়। তার আমলেই কুরাইশদের বাণিজ্য ইয়ামান থেকে রোম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। তিনি রোম স¤্রাট থেকে বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার অধিকার লাভ করেন। বিভিন্ন গোত্রের সঙ্গে সন্ধি করে বাণিজ্য পথকে নিরাপদ করেন। একবার সিরিয়ায় বাণিজ্য যাত্রা কালে পথে তিনদিন ইয়াসরিব তথা মদিনায় অবস্থান করেন। তখন বানু নাজ্জার গোত্রের সালমা নামে সুন্দরী ও বিদূষী মহিলার সঙ্গে তার বিবাহ হয়। পরে এই বাণিজ্য সফরে সিরীয় গাজ্জায় তার ৫১০ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যু হয়। এই মহিলার একমাত্র সন্তান শায়বা। পরে তিনি আবদুল মুত্তালিব নামে প্রসিদ্ধ হন। আবদুল মুত্তালিব কালক্রমে মক্কার মাঝে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। তারই দশপুত্রের কনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহান পিতা খাজা আবদুল্লাহ।

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ রচিত ‌’খোদার পরে শ্রেষ্ঠ যিনি’ গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত

লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *