আহমাদ কাশফী—এর গুচ্ছ কবিতা

আহমাদ কাশফী—এর গুচ্ছ কবিতা

১. আকাশ দেখতে দেয় না

আমার আর আকাশের মাঝে অন্তরায় শুধুই মেঘ।
আমি আকাশ দেখতে চাই
দৃষ্টি সম্প্রসারণ করে তাকাই
মেঘেরা অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

আকাশ দেখতে দেয় না
মেঘেরা আমাকে আকাশ দেখতে দেয় না।
আমি নিরুপায় হয়ে চেয়ে থাকি
রজনী গভীর হয়, আধাঁর তীব্র হয়
ধীরেধীরে শুভ্রতার বিচ্ছুরণ ঘটে
রাত্রি ফুরোয়, আঁধার কাটে
আশ্বিন, কার্তিক ফুরোয়
পৌষে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে
আমি শূন্য মাঠ থেকে চেয়ে থাকি।

আমাকে আকাশ দেখতে দেয় না
নিষ্ঠুর মেঘেরা আমাকে আকাশ দেখতে দেয় না।

২. আমার অপেক্ষারা

তন্দ্রা এসেছিল রাত্রির প্রথম প্রহরে
এসেছিলে বুঝি তুমিও
মস্তিষ্কের ভাবনার কোষে তোমার আগমন টের পেয়েছিলাম তখন
এখন শেষ প্রহর, গোটা শহর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন
কেবল আমিই নির্ঘুম।

কিছুক্ষণ পর আধাঁরের পর্দা সরে যাবে
গোটা শহর জেগে উঠবে
উদয়াচল রাঙিয়ে সূর্য উদিত হবে
আর্দ্রতাহীন সকালের সোনালী রোদে
চারদিক উদ্ভাসিত হবে।

প্রেয়সী—
আমার অপেক্ষারা শুধু প্রহর গুনে যায়
এমন একটি ভোরের।
যে ভোরে, আর্দ্রতাহীন সোনালী রোদে রাঙবে
আমার বসত।

৩. বিচ্ছেদ বেদনা

বিচ্ছেদ যন্ত্রণায় বেদনার্ত ছিলাম দুজন
অতীতের ভুল শুধরে যখন মিলন হলো
নিঃস্ব, নির্মম দিনপঞ্জির বেদনার্ত বর্ণনা দিলে তুমি
প্রিয়তমের শোকে হৃদপিন্ডে গভীর
রেখাপাত, আখিঁযুগল বেয়ে ছলছল জলধারা!
কতো নিষ্ঠুর তুই, বিচ্ছেদ বেদনা!

অথচ, তোমার জিজ্ঞাসের জবাব কেবল গুচ্ছ কবিতা
তবে কি, কবিতার জন্যই বিচ্ছেদ বেদনা..?

৪. বার্ধক্যের কবিতা

কাঁদামাটির মত নরম দেহটা
বার্ধক্যের ভারে নু’য়ে পড়েছে
তপ্তরোদে গায়েরচামড়া খসে যাওয়ার উপক্রম!
তৃষ্ণার্তের মত ছটফট করে ভেতরটা;
হৃদ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছি যেন।

মসৃণ দেহটা আজ চৈত্রের রোদে ফেটে চৌচির
কোমল ত্বকে কি তবে শকুনের আঁচড় লেগেছে..!
দেহজুড়ে তবে কি ভর করেছে?

মরুবাসী মনে হচ্ছে নিজেকে
অথচ, আমি ষড়ঋতুর দেশের বাসিন্দা।
প্রস্তুত হও! অতিশীঘ্র তোমার ডাক আসবে..
অচেনা দূত এসে বারবার বলে যায়;
হয়তো দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর মাটির আর দেহে—
আবার সন্ধি হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *