কাউসার মাহমুদ—এর নতুন কবিতা ‘কাফের’

কাউসার মাহমুদ—এর নতুন কবিতা ‘কাফের’

কাফের

এখানে কারা এইরূপ নেশাগ্রস্ত ছিলো
যারা কোনদিন পবিত্রগ্রন্থ স্পর্শ করেনি
ছোঁয়নি কোনও মাংসের দোল, অথবা উত্থিত অশুদ্ধ পরাগ
সমস্ত বায়বীয়তাকে নমস্য জেনে তারা হেঁটেছিলো
শুয়েছিলে মহাপ্রস্থানের পথে; যেনবা কায়া।

তাদের কারো কারো মনে নাযেল হয়েছিলো ধ্যান
তারা এই ফসল ও ফসিলের মাঝে লেপে দিয়েছিল খোদাকে
অনুচ্চার সংলাপে ভাসিয়েছিলো মানব কূটিলতা
গৃহের কবুতর ধরে উড়িয়ে বলেছিলো, হে গোলাম
তুমি আযাদ! আযাদ! আযাদ!
খোদা পৃথিবীর সবাইকে মুক্তি দিয়েছিলেন।

আমিও তোমাকে প্রভূর মতোই মুক্তি দিলাম
তিনিও আমাকে মুক্ত করেছেন সমস্ত জেল্লা থেকে।

তাদের এইসব বোধি কথা ভেবে আমি অন্ধ হয়ে যাই
ইবাদতগাহ ছেড়ে কোথায় যে কোনপথে হাঁটি, কোন বনে!
দেখি কোথাও মানুষ নাই, সবাই গোলাম।
মনে হয় সকলের শরীরে মরা কর্পূরের গন্ধ।

তবুও হাঁটি আর বলি—
‘মান আরাফা নাফসাহু’ ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু’
‘আল্লাহু খালাকা মাফিস্ সামাওয়াতি’ ওয়াল আরদ’

বৃষ্টির ফুল

আমাদের কোথাও কি যাবার ছিলো!
বৃষ্টি কুড়োতে—
মেঘ ধরতে নীল ধানের বিলে।

কোথাও কি হারাবার ছিলো!
হাঁটতে-হাঁটতে।
জীবনকে ছুটি দিয়ে কোনও অজানা পথের কোণে
পরিযায়ী পাখির মতো উড়ে উড়ে।

কি অদ্ভুত! যাওয়া হলো না কোথাও
উড়া হলো না মেঘে!
কেবল বৃষ্টি পড়লেই মনে পড়ে
আমাদের যাবার কথা, হারাবার কথা।
তখন, অপেক্ষা নীচু হয়ে দাঁড়িয়ে বলে;
হয়তো কোনদিন বৃষ্টিই হয়ে যাব।

রোদের হুলে ছড়িয়ে দেব আলো
পথচ্যুত মালির মতো ভয় পাব
ভুল করে ক’টি ফুল ফেলে যাব পাড়ে।
যে কোন মেয়ের ঠোঁট তুলে নিতে পারে।

বাজিকর

এখানে খড়কুটো ভাসমান প্রাণ
বিলম্ব সহিসের ধীরস্থির যাতায়াত পথ
মৃত্যুর লোকায়িত আয়োজনে
ফাঁকিবাজ প্রেমিক—
বিচ্ছেদ বলার আগেই মরে গেল।

আর নাভিমূল ছিঁড়ে, পড়ে গেল জন্মের ফুল
কোথাও কোনরূপ শব্দ ছাড়াই।
যেন নিঃশব্দে একটা মানুষ ও প্রেমিক
একফোঁটা ভালোবাসা ছাড়া/ সস্নেহে পৃথিবী ত্যাগ করে গেল।

অস্থির মৃত্যুর মুখে

আমার হাঁটার পথে রক্তাক্ত করবীর মুখ
বুঝি এতোদিন পাখিটির মুখে আটকে ছিলো!
আর ঘরে ফেরা আবহ বাতাসের ধ্বনি
কেঁপেছিলো সাদা রাজ হাঁসটির মাথায়।

খাঁচা ছাড়া মোরগের উড্ডীন সেই লাল ফুল
যেন বা তিরতির ম্লান সময়ের আঁচল।
আমাকে কিরূপ ব্যাথিত করে!

যখন তার পাশে, দূরে তিলবনে পরাঙ্মুখ ঘুঘু
কতকাল পার করে আবারো এলো বুঝি
আবারো এলো লুকিয়ে, লুকিয়ে
নিঃশব্দ দুপুরের পিঠে একার বিষাদ ছড়িয়ে
আমাকে একাই দিয়ে গেল।
তখন আমি কেমন অস্থির মৃত্যুর মুখে
ব্যাথিত হয়ে মারা যাই!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *