সিতারোঁ ছে আগে যাঁহা অওর ভি হ্যাঁয়
মুস্তাফা জামান আব্বাসী : সিতারোঁ ছে আগে যাঁহা অওর ভি হ্যাঁয় যাঁহা স্যাকরোঁ কার ভাঁ অওর ভি হ্যাঁ।বলেছেন, আল্লামা ইকবাল।
সকলে যখন উঠে নি তখন আমি উঠেছি। অর্থাৎ ভোর হয় নি। মোবাইলে দেখলাম লেখা আছে এখনও ঘুমোন নি? আজ সকালটা যেন কেমন? ঘুমোতেও চায় না, আবার ঘুমোতে গেলে নানা চিন্তা আসে। বন্ধু বললেন, ঘুম না আসলে দরূদ পড়, ঘুম আসবেই। কেন আসবে, তা ভাবলাম। ওটা কি মনোটনি, না সত্যিকার ভালবাসা? দরূদের জন্যে আকুতি, না ঘুম আসার মনোটনি ডাক দিয়ে আনা।
কোনটাই নয়। মনটাকে আসলে সুন্দর কিছুর সঙ্গে কিছুক্ষণ আড়াল করে রাখা, যাতে ঘুম আসে। যারা রাতে ঘুমোতে পারেন না, তাদের মত অভাগা আর ক’জন। যখন ঘুম তখন ঘুমোতে হয়ে, যখন জাগার তখন জাগতে হবে। এই পৃথিবীর নিয়ম। যারা রাত জাগে, তারা কেমন? কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলাম। বলেন, এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই। ঘুমোলেই সব আনন্দ শেষ। সব স্বপ্নের সমাধি।
সত্যি কি তাই? না ঘুমোলে কেমন হয়? এবং কাউকে নিয়ে ঘুমোলে ভাল। শবেবরাত এমন একটি রাত ছিল। সমস্ত পৃথিবী ঘুমিয়ে ছিল। আসলে কি তাই? সবাই জেগে ছিল। শুধু আমার জন্যে। এক পৃথিবী থেকে আরেক পৃথিবী গেলাম। পৃথিবীর শেষ নেই। যেমনটি ইকবাল বলেছেন, ‘সিতারোঁ ছে আগে যাঁহা অওর ভি হ্যাঁয় যাঁহা স্যাকরোঁ কার ভাঁ অওর ভি হ্যাঁ’। আমার স্বপ্নের শেষেও অনেক পৃথিবী বাদ রয়ে গেল। তা হলে আরেক দিন।
আজ আরেকটি দিন। আমার মেয়ে বোকারাটন থেকে এসেই বলল, আব্বা পটল খাব। আর কি খাবে? আতাফল খাব। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে হাজির। কেন এমন খেতে ইচ্ছে হয়, মনকে জিজ্ঞেস করলাম। আমার এমন হয় রাত দু’টোয় ইচ্ছে করে জিঙ্গে খেতে। আমার আম্মা খুব সুন্দর করে রান্না করতেন শিং মাছ দিয়ে। সকালে উঠে বৌকে বললাম, আজ এইটি খাব। সত্য কথা বলতে কি, ঠিক এক টেষ্ট।
পৃথিবী আপন নিয়মে চলছে। যখন যেখানে ভাল লাগবে একটু থামবেন।
মু. জা. আ.
১০ই বৈশাখ, ১৪২৬


