ইকরা ফুযালা সম্মেলনে ভালোবাসার ছোঁয়া
‘আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন ভাই’ পিছনে ফিরে দেখি আরিফ বিল্লাহ ভাই। ছিপছিপে গড়নের দুবলা পাতলা এই মানুষটি যেন হাজারো দিনের চেনা।
ইকরার যে কোন অনুষ্ঠানে ছুটে আসেন সুদূর বি.বাড়িয়া থেকে। পরদিন ইকরার ফুযালা সম্মেলন, একদিন আগেই এসে গিয়েছেন আরিফ ভাই।
ফুযালাদের কথা বলতে গেলে সবার আগে যাকে মনে পড়ে তিনি হলেন নূরুদ্দীন জামালী। জামাল সে হোক বা না হোক তবে তিনি একজন যুগপৎ কামাল আদমী। তার কামালিয়াতের অনেক উদাহরণ আছে। এক দুইটা শুনাই…এই যাহ, কোথাকার আলোচনা কোথায় গিয়ে ঠেকছে।
আমি মূলত জামি’আ ইকরার ফুযালা সম্মেলনের কথা বলতে শুরু করেছিলাম। এই তো এপ্রিলের তের তারিখে কাকডাকা ভোরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ফুযালা সম্মেলন। দেশজুড়ে কওমী মাদরাসাগুলোর পরীক্ষার মৌসুম হওয়া সত্ত্বেও ভালোই সাড়া পেয়েছি। প্রাণপ্রিয় শাইখুল জামি’আ আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা. দীর্ঘক্ষণ কথা বললেন-
‘অন্যরা সমাজের সন্তান, তোমাদেরকে সমাজের বিনির্মাতা হয়ে বাঁচতে হবে’ কথাটি শুনে আপাদমস্তক উদ্দীপনার এক স্রোত বয়ে গেল যেন। ছোট্ট বাক্য অথচ কি শক্তিমান! কি উৎসাহ ব্যঞ্জক! কি শান্তনাদায়ক! একটি বাক্য মাত্র, অথচ প্রেরণার চরম শিখড়ে পৌঁছে দেয়। অন্য আট দশটা প্রতিষ্ঠানের ছেলেরা ফারাগাতের পরে সমাজের গতানুগতিক ধারার সাথে মিশে যায়, মিশে যেতে পারে, সমাজকে সৃষ্টিশীল কোন কাজ দিতে পারে না। পক্ষান্তরে ইকরার ফারেগীনরা এই গড্ডালিকা প্রবাহে বিলীন হয়ে যেতে পারে না। তাদের প্রধানতম চিন্তাই থাকে সৃষ্টিশীল কিছু করা, জাতীয় কিংবা বৈশ্বিক কোন আন্দোলনের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করা।
এই যে জামালীর কথাই যদি বলি, তিনি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছেন। ফারাগাতের পরে যেখানে বিভিন্ন জায়গার মেধাবী ছাত্ররা একটা ইমামতি আর মাদরাসায় সেক্রেটারির বেগার খাটার জন্য জুতার তলা ক্ষয় করে চাকরি খুঁজছেন, সেখানে তিনি বেফাকে স্ট্যান্ড না করলেও উঁচু রেজাল্টধারীদের লজ্জায় ফেলে মাঠে ময়দানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। বাতিলের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলে আজ তিনি পরিচিত মুখ। জনগণকে দিচ্ছেন সঠিক পথের দিশা। আলেম-জনতার মাঝে ঐক্যের সেতুবন্ধ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। হুম, এই হলো সমাজের বিনির্মাতা। এটা এমনি এমনি হয়ে যায়নি, নিরন্তর সংগ্রামের পর টাঙ্গাইলে জামালীর এই অবস্থান তৈরি হয়েছে।
এটাতো মাত্র একজনের উদাহরণ দিলাম। এমন ডজন ডজন সমাজ বিনির্মাতার গল্প শুনানো যাবে, যার সবাই ইকরার সন্তান।
ফুযালা সম্মেলন শেষে আবিষ্কার করলাম, আমাদের শিক্ষাবর্ষটাই ছিল ইকরার সেরা। কারণ জামি’আ ইকরা একটি ফিকরী মারকায, নানা পক্ষের সাথে প্রায়শই গোল বাঁধে তো এখানেই। যে যেহনিয়্যাত-চিন্তাধারার সবক ইকরা দেয়, ছাত্রসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে কনিষ্ঠতম হয়েও একে ধারণ করার সক্ষমতায় আমরাই যেন সর্বাগ্রে। দুইজন হলাম জামি’আ ইকরার খাদেম। একজন আছেন ইকরা মাল্টিমিডিয়ায়। একজন পাথেয়২৪ এ। আরো একজন ছিলেন ইকরা স্কুল বিভাগে। এতোটা আপন করে আর কোন শিক্ষাবর্ষের সন্তানদের কাছে টেনে নেয়নি ইকরা কমপ্লেক্সকে ছায়া বিলানো সেই কদমগাছটি।
ইকরার জয় হোক, জয় হোক ইকরার সন্তানদের।
বিনীত
আব্দুস সালাম
২০১৫ সালের ফারেগীন


