ইতিকাফকারী গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে

ইতিকাফকারী গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে

ইতিকাফকারী গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : ইতিকাফকারীর একটা বড় পাওনা হল সে সব ধরনের গোনাহ থেকে হেফাজতে থাকে। কোন গোনাহ তার দ্বারা হয় না। কেননা সে সব সময় মসজিদে পড়ে থাকে। একমাত্র ইস্তিন্জা, ওজু ছাড়া সে কখনো বের হয় না।

এ কারণে ইতিকাফকারী দ্বারা গোনাহ হওয়ার কোন সম্ভবনা থাকে না। যে কয়দিন সে ইতিকাফ করবে, সে কয়দিনই গোনাহ মুক্ত থাকতে পারে।
এটা একটা বিশাল ব্যাপার, আমরা কিন্তু অন্য সময়গুলোতে গোনাহ মুক্ত থাকতে পারি না। কিছু না কিছু গোনাহ হয়েই যায়। তবে ইতিকাফে বসলে দারুণ একটা সুযোগ গোনাহ থেকে বাঁচার।

ইতিকাফকারী আল্লাহর ঘরে, একদম যেন আল্লাহর হাওলায় চলে যায়। সারাটা দিন রাত মাওলা পাকের ধ্যানে বসে যায়। মহান আল্লাহর সাথে বন্ধুত্ব কায়েম করাই বড় লক্ষ্য থাকে। এজন্য গোনাহ করার সুযোগই তার থাকেনা।

ইতিকাফ অবস্থায় তো মসজিদ ছাড়া বাইরে যাওয়া যায় না। নানান পদের মানুষের সাথে মেশা হয় না। কোন বেপর্দা মহিলার প্রতি নজর পড়ার সম্ভবনা থাকে না। এ কারণে হাতের গোনাহ, পায়ের গোনাহ, মুখের গোনাহ, চোখের গোনাহ, এধরনের সকল প্রকার গোনাহ থেকে বাঁচা যায়।

পাশাপাশি ইতিকাফকারীর আমল নামায় সওয়াব লেখা হতে থাকে। এমন এমন বিষয়ের সওয়াব লেখা হয়, যে কাজ গুলো ইতিকাফকারী শরীক ছিল না। যেমন জানাযা, রোগী দেখতে যাওয়া। ইতিকাফকারী মসজিদে বসে বসে এসব সওয়াবের অধিকারী হবে। সে জানাযা পড়ার সওয়াব পাবে। এমনি ভাবে রোগী দেখতে যাওয়ার সওয়াব পাবে। অথচ এগুলোর কোনটায় সে শরীক ছিলনা। শুধু ইতিকাফে বসার কারণে তার আমলনামায় সওয়াব লেখা হতে থাকবে।

মোটকথা, ইতিকাফে বসতে পারলে লাভ আর লাভ। গোনাহ থেকে সে বেঁচে যাবে। তার আমলনামায় সওয়াব লেখা হবে অগণিত। মহান আল্লাহর সাথে এব বিশাল সম্পর্ক কায়েম হবে। তাঁর খাছ বান্দায় পরিণত হবে।

বন্ধুরা আসুন! এখন রমজানের শেষ দশক চলছে। এই শেষ দশকই ইতিকাফের সময়। বিভিন্ন মসজিদে আলেম উলামা এবং আল্লাহর পেয়ারা বান্দারা ইতিকাফে বসে গেছেন। আমরা যারা বাইরে আছি, একটু সময় বের করে মসজিদে সময় দেওয়ার চেষ্টা করি। অন্তত একটা দিন হলেও এই বরকতময় মাসের দিনগুলোত ইবাদতে পার করার চেষ্টা করি।

আল্লাহ তুমি তাওফিক দাও। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজক বিশ্লেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *