পাথেয় ডেস্ক : ১ থেকে ৩ মে ২০১৮ পর্যন্ত আমরা বিশ্বের আলেম উলামা একত্র হয়েছি ইন্দোনেশিয়ার উত্তর জাভার বাগোরে অনুষ্ঠিত ‘ইসলামের মধ্যম পন্থা’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে।
আজ বিশ্বব্যাপী যে অস্থিরতা বিশৃঙ্খলা আর নৈরাজ্য চলছে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দারিদ্র্যতা, মূর্খতা, জুলুম, শ্রেণীবৈষম্যসহ বিবিধ যে সমস্যা বিরাজ করছে সে সম্পর্কে মতবিনিময়ের জন্যেই মূলত আমাদের একত্র হওয়া।
আমরা ইসলামে বিশ্বাসী। এটি শান্তি সোম্য, ন্যায় ও সভ্যতার ধর্ম, যার মৌলশিক্ষা হলো প্রেম, দয়া, সাম্য, শান্তিবাদিতা।
আমরা স্বীকার করি যে, ‘মধ্যমপন্থা’ই হলো ইসলামের মৌলিক ও বাস্তব চিত্রণ। এর চর্চাই চলে আসছে নবী -ছাহাবা যুগ, থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর আনাচে কানাচে। এবং এটাও সত্য কথা যে, আলেম উলামাকেই আগামী প্রজন্মকে ‘মধ্যমপন্থী সভ্যতা’ বিনির্মাণের কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে।
এজন্য আমদের কয়েকটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
১) ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষার আলোকে ‘মধ্যম পন্থার’ কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি ঘটানো। সেক্ষেত্রে সাতটি মূলনীতি লক্ষণীয়।
ক) সিরাতুল মুস্তাকিম তথা সহজ সরল পন্থা অবলম্বন।
খ) দায়িত্বের সঙ্গে সুসামঞ্জস্যপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত কর্তৃত্ব প্রয়োগ।
গ) উদারতা তথা জীবনের সকল ধাপে মতবৈচিত্র্যকে স্বীকার করে নেওয়ার পাশাপাশি এর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।
ঘ) সংস্কার তথা সংশোধনমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহ ও সার্বজনিন সংস্কারের সদিচ্ছা।
ঙ) নেতৃত্ব তথা জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অগ্রগামিতা ও নেতৃত্বদান।
চ) দেশত্ববোধ তথা স্বদেশের প্রতি সম্মান ও ভালবাসা লালন করা।
২) ইসলামী সভ্যতা ও ইতিহাসের শিক্ষা কেন্দ্র করে ব্যাক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে একটি জীবন্ত সংস্কৃতি হিসেবে ইসলামী মধ্যমপন্থার ভিত্তি স্থাপন করা।
৩) সংকল্পকে সুদৃড় করা, যেন পৃথিবী স্বাক্ষী থাকে আমরা জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ইসলামী মধ্যমপন্থার উপমা স্থাপন করে যাচ্ছি।
৪) ইসলামকে বিশ্বায়নের লক্ষে ‘ইসলামী মধ্যমপন্থাকে শক্তিমান করতে মুসলিম রাষ্ট্র ও সমাজকে এগিয়ে আসার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। ন্যায়, উন্নতি, শান্তি, উদারতা, ঐক্য ও সাম্যের ভিত্তিতে একটি সমাজ বিনির্মাণ করা।
বাগোর, ইন্দোনেশিয়া
৩ মে, ২০১৮/ ১৭ শাবান ১৪৩৯

সূত্র : সদরুদ্দীন মাকনুন গ্রন্থনা ও অনুবাদ : আবদুস সালাম সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


