৬ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৬শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

উত্তরা গণভবনকে ন্যাশনাল হেরিটেজ ঘোষণায় হাইকোর্টের রুল

উত্তরা গণভবনকে ন্যাশনাল হেরিটেজ ঘোষণায় হাইকোর্টের রুল

পাথেয় রিপোর্ট : প্রায় ৪১ একর জায়গাজুড়ে চারদিকে লেক ও প্রাচীর বেষ্টিত উত্তরা গণভবনখ্যাত রাজবাড়িটিতে ছোট-বড় ১২টি ভবন আছে। এই নাটোরে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাঞ্চলীয় বাসভবন উত্তরা গণভবনকে ‘ন্যাশনাল হেরিটেজ’ হিসেবে কেন ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে সংস্কারের নামে ঐতিহাসিক এ স্থাপনা ধ্বংস করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রুল জারি করে।

নাটোরের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারজানা শারমিন পুতুলের জনস্বার্থে করা একটি রিট আবেদনে এ রুল জারি করে আদালত।

আদালতে রিটকারী নিজেই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাসার।

রুলে উত্তরা গণভবনের যে কোনো ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন, পরিমার্জন, বিনষ্ট বা ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং ওই স্থাপনার মূল নকশা পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড অপসারণের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

গণপূর্ত ও পর্যটন সচিব, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, নাটোরের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ৭ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘উত্তরা গণভবন: ঐতিহ্যে কুঠারাঘাত’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে এই রিট আবেদন করা হয়।

আবেদনে পর্যটন সুবিধা বাড়ানোর নামে উত্তরা গণভবনের মূল নকশার পরিবর্তন করে নতুন স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।

প্রসঙ্গত, উত্তরা গণভবন প্রাসাদের মূল অংশ এবং সংলগ্ন কিছু ভবন নির্মাণ করেছিলেন রাজা দয়ারাম রায়। রাজবংশের ষষ্ঠ রাজা প্রমদানাথ রায়ের আমলে ১৮৯৭ সালের ১০ জুন নাটোরের ডোমপাড়া মাঠে তিনদিনব্যাপী বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের এক অধিবেশন আয়োজন করেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অনেক বরেণ্য ব্যক্তি এ অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। অধিবেশনের শেষ দিন ১২ জুন প্রায় ১৮ মিনিটব্যাপী এক প্রলয়ংকরি ভূমিকম্পে রাজপ্রাসাদটি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। পরে রাজা প্রমদা নাথ রায় ১৮৯৭ সাল থেকে ১৯০৮ সাল পর্যন্ত ১১ বছর সময় ধরে বিদেশী বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী ও চিত্রকর্ম শিল্পী আর দেশী মিস্ত্রিদের সহায়তায় সাড়ে ৪১ একর জমির উপর এই রাজবাড়ীটি পুনঃ নির্মাণ করেন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com