৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৫শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

ঋতু পরিবর্তনে শিশুর নিউমোনিয়া : প্রয়োজন সচেতনতা (৩য় পর্ব)

ঋতু পরিবর্তনে শিশুর নিউমোনিয়া : প্রয়োজন সচেতনতা

সেলিনা আক্তার : নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে অথবা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। তার পরও যদি কোনো কারণে চিকিৎসকের কাছে যেতে বিলম্ব হয়। ততক্ষণ পর্যন্ত বাড়িতে বসে বাচ্চার জ্বরের পরিমাণ যদি বেশি থাকে, তাহলে তাকে প্যারাসিটামল সিরাপ দিতে হবে অথবা খেতে না পারলে মলদ্বার দিয়ে সাপোজিটরি দিয়ে অবশ্যই জ্বরের মাত্রা কমাতে হবে। জ্বর কমাতে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে শরীর মোছানোর পদ্ধতিটি বেশ উপকারী এবং যদি শিশুদের খুব কাশি থাকে ও তার বয়স যদি ছয় মাসের বেশি হয় তবে তাকে আদা চা, লেবু চা, মধু দিয়ে কুসুম গরম পানি তুলসীপাতার রস দিলে কাশির ক্ষেত্রে কিছুটা উপশম হয়।

এছাড়া রোগীর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা করতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে আছে এক্সরে, রক্ত পরীক্ষা, জীবাণু কালচার ইত্যাদি। নিউমোনিয়ার কিছু ভ্যাকসিন বের হয়েছে। এই ভ্যাকসিনগুলো যদি সময়মতো নেওয়া যায়, তাহলে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে শিশুদের নিউমোনিয়া ১৪ থেকে ২৫ ভাগ কমে যায়। তাই শিশুদের জিঙ্ক ট্যাবলেট বা সিরাপ এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানো উচিৎ।

তাছাড়া ছয় মাসের কম বয়স এমন বাচ্চারা যদি বুকের দুধ পান করে তবে সে নিউমোনিয়ার জীবাণু অনেকটাই প্রতিহত করতে পারবে। যে বাচ্চার বয়স ছয় মাসের বেশি, তাদের যদি বুকের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার হিসেবে দেশীয় খাবার, যেমন খিঁচুড়ি, দেশি ফলমূল, শাকসবজি খেতে দেয়া হয়, তবে খাবারের মাধ্যমে শিশুর পুষ্টি ঠিক রাখা সম্ভব যা তার নিউমোনিয়ার জীবাণু প্রতিহত করার ক্ষমতাকে আরো বাড়বে।

মনে রাখা দরকার, অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত হলে বাচ্চাদের ঘনঘন নিউমোনিয়া হয়। তাই শিশুর যথাযথ পুষ্টির দিকে মা-বাবকে অবশ্যই নজর দিতে হবে। সন্তানদের মধ্যে এই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই মা-বাবাদের সন্তানকে কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা নিকটস্থ যেকোনো হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। মা-বাবা যদি তাদের সন্তানদের প্রতি একটু সচেতন হন, তাহলে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি হাজারে শিশুর মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার তিনজনে নামিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তা অর্জন করা সম্ভব হবে। তাই নিউমোনিয়া প্রতিহত করতে আমাদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

লেখক : কলামিস্ট

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com