কলম্বিয়ান নাগরিক আমান রা’কে নিয়ে বিপাকে পুলিশ

কলম্বিয়ান নাগরিক আমান রা’কে নিয়ে বিপাকে পুলিশ

পাথেয় রিপোর্ট : কলম্বিয়ান এক নাগরিককে নিয়ে বিপাকে পড়েছে রাজধানীর বাড্ডা থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) ভোরে রাজধানীর শাহাবুদ্দিন মোড় এলাকা থেকে আমান রা (৪৫) নামে ওই নাগরিককে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি থানার ওয়েটিং রুমেই অবস্থান করছেন। থানা থেকেই তার খাবার সরবরাহ করাসহ অন্যান্য যাবতীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমান রাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে।

ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ভোরে শাহাবুদ্দিন মোড় এলাকায় আমান রাকে অসংলগ্ন কথাবার্তা ও উদ্দেশ্যবিহীন ঘোরাঘুরি করার সময় স্থানীয় লোকজনের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে। তার পাসপোর্ট ঘেঁটে জানা যায় সে কলম্বিয়ার নাগরিক। গত ১৪ জুন বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এক মাসের ভিসা নিয়ে ট্যুরিস্ট হিসেবে দেশে প্রবেশ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছে। কখনও সে নিজেকে মুসলিম পরিচয় দেয়,আবার কখনও সে নিজেকেই ‘গড’ হিসেবে দাবি করে।’

ওসি জানান, সে পরিষ্কার ইংরেজিতে কথা বলে। পেশায় প্রকৌশলী ও শিক্ষক হিসেবে সে আমেরিকার টেক্সাসে প্রায় ২১ বছর ছিল বলে জানিয়েছে সে। কথাবার্তায় তাকে অনেক বেশি শিক্ষিত বলে মনে হয়। তবে মাঝে মধ্যেই সে মুসলিম ধর্ম ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে এমন কথা বলে, যা তার নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’

বাড্ডা থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ‘আমান রা’কে থানায় আনার পরপরই বিষয়টি পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবির) সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আমান রা’র কাছে পর্যাপ্ত অর্থও নেই। এজন্য তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত পাঠানোর বদলে আনঅফিসিয়ালি ফিরতি টিকেট কেটে কলম্বিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আমান রা ভিসার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশ ছাড়তে রাজি নয়।’

ওসি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি নিজেরা চাঁদা তুলে তাকে ফেরার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য। এখন তাকে ছাড়াও যাচ্ছে না, কারণ তার অসংলগ্ন কথাবার্তার কারণে হয়ে কেউ তাকে আক্রমণ করেও বসতে পারে। বিষয়টি নিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। তার নিরাপত্তার জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতেই রাখা হয়েছে।’

__________

patheo24/105

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *