কাভানি, নেইমার এমবাপ্পের দুর্দান্ত গোলে দ্বিতীয় রাউন্ডে পিএসজি

কাভানি, নেইমার এমবাপ্পের দুর্দান্ত গোলে দ্বিতীয় রাউন্ডে পিএসজি

ক্রীড়া ডেস্ক : এডিনসন কাভানি, নেইমার, মারকুইনহোস ও কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে রেডস্টার বেলগ্রেডকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পিএসজি। এদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউটপর্বে ওঠা নিয়ে দোলাচলে ছিল পিএসজি। সেখানে খেলতে হলে হার এড়াতেই হতো। তবে শুধু হার এড়ানো নয়, বড় ব্যবধানে জিতে ইউরোপসেরা টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছেন দ্য পারিসিয়ানরা।

মঙ্গলবার রাতে রেডস্টার স্টেডিয়ামে আতিথ্য নেয় পিএসজি। মাঠে নেমেই আগুন ঝরাতে থাকেন অতিথিরা। সূচনালগ্নেই গোল পেয়ে যান তারা। ৯ মিনিটে সফল নিশানাভেদে দলকে লিড এনে দেন কাভানি। তাতে ছিল এমবাপ্পের আলতো ছোঁয়া।

আলাদা করে বলতে হয় এমবাপ্পের কথা। বললে এভাবে বলা হবে যে দলে এমবাপ্পে আছে সে দলের আর কি লাগে? কথাটি এখন বলাই যায়! ম্যাচের নবম মিনিটে বল নিয়ে যে গতিতে ছুটলেন…তাঁকে রোখার সাধ্য কার! প্রতিপক্ষের ডি বক্সে ঢুকেই বল বাড়িয়ে দেন কাভানিকে। অনেকটা ফাঁকা জালে বল জড়াতে কোনো সমস্যাই হয়নি উরুগুইয়ান স্ট্রাইকারের। রেড স্টারের মাঠে খেলাটা কঠিন ছিল। কিন্তু নেইমার-কাভানি-এমবাপ্পেদের দেখে সেটা মোটেও মনে হয়নি। ভালো খেলা, জয়…এ ছাড়া তো তাঁদের আর কোনো পথও খোলা ছিল না। অন্ধকার গলির পরে আলোর দিশা পাওয়া পিএসজি গোল ব্যবধানে এগিয়ে যায় প্রথমার্ধেই। এবারও এমবাপ্পে। তবে এবার বল জালে জড়িয়ে পিএসজির পোস্টারবয় খ্যাত নেইমার মৌসুমে নিজের পাঁচ নম্বর গোলটি করেন। ৪০তম মিনিটে এমবাপ্পের কাছ থেকে বল পেয়ে পিএসজির ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড আড়াআড়ি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
অনেক কথার পরেও চ্যাম্পিয়নস লিগে এই মৌসুমে পিএসজির সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন নেইমার। ফরাসি ক্লাবটির হয়ে এখন পর্যন্ত ১১ গোল করেছেন করিয়েছেন ৫টি। যা পিএসজির হয়ে আর কেউ পারেননি।

এগিয়ে গিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে পিএসজি। মুহুর্মুহ আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে দলটি। ৪০ মিনিটে দারুণ এক গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নেইমার। এতেও ছিল এমবাপ্পের জাদুকরী টাচ। এ নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদার টুর্নামেন্টে ৫ গোল করলেন ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আক্রমণের গতি সচল রাখে পিএসজি। তবে স্রোতের বিপরীতে ৫৬ মিনিটে গোল খেয়ে বসে প্যারিসের ক্লাবটি। দুর্দান্ত ভলিতে বল ঠিকানায় পাঠান বেলগ্রেড রক্ষণসেনা মার্কো গোবেলিচ।

গোল হজমের ঝটিকা আক্রমণে নামে পিএসজি। এবার আর তাদের রুখতে পারেননি স্বাগতিকরা। ৭৭ মিনিটে বল জালে জড়ান মারকুইনহোস। অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার বাড়ানো বলে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।

এখানেই ক্ষ্যান্ত হয়নি পিএসজি। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে লক্ষ্যভেদ করেন এমবাপ্পে। তাকে অ্যাসিস্ট করেন নেইমার। এতে একে অপরের ঋণ পরিশোধও হয়। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বড় জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে পা রাখেন টমাস টুখেলের শিষ্যরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *