কী সেই সেফুদার আসল রহস্য

কী সেই সেফুদার আসল রহস্য

কী সেই সেফুদার আসল রহস্য

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অশ্লীল কথাবার্তা ও অসংলগ্ন বক্তব্যের নায়ক সিফাতুল্লাহ ওরফে সেফুদা। কে এই সেফুদা, জানতে চান অনেকেই। বিকৃত মানসিকতার সেফাতুল্লাহ সাফা কবিরের পক্ষে বলতে গিয়ে পবিত্র কুরআন অবমাননা করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিশ্বজুড়েই তার ফাঁসি দাবি করেছে ইসলামপ্রিয় মানুষ।

ইতোমধ্যেই রাজনীতিসহ নানা ইস্যুতে কথা বলে প্রবাসী বাংলাদেশি সেফাতুল্লা ‘সেফুদা’ আলোচনায় উঠে এসেছে। অশ্লীলতা বান ডেকে এই সেফুদা বিনোদনেরও পাত্র হয়েছেন। প্রতিটি ইস্যুতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে তিনি যাচ্ছেতাই বক্তব্য উগ্রে দেন। প্রচুর ভিও হয় তার বক্তব্য। গণমাধ্যম তাকে এক উচ্চ মার্গে পৌঁছে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিশ্লেষকগণ।

সেই সময়য় শুধু সিফাতউল্লাহ নামেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত ছিলেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের এক ক্রিকেটারের সাথে এক তরুণীর ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময়য় সিফাত উল্লাহ ফেসবুকে একটি লাইভ করেন। তখন থেকেই মূলত তার লাইভে দর্শক বাড়তে থাকে।

বর্তমানে অস্ট্রিয়া প্রবাসী এ বাংলাদেশির এমন আচরণে অনেকটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে তার পরিবার। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। ১৯৯০ সাল থেকে তিনি অস্ট্রিয়ার রাজধানীর ভিয়েনায় বসবাস করছেন।

অল্প সময়ে ফেসবুক তারকা বনে যাওয়া এ সেফুদা মূলত মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তার এমন কর্মকাণ্ডে পরিবারসহ আত্মীয়-স্বজন খুবই লজ্জিত বলেন তার স্ত্রী। জানা যায় তার পুরো নাম সেফাতউল্লাহ মজুমদার। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা পড়া করেছেন l

ভিয়েনা বাঙালি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ও প্রবাসী সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদ জানান, ভিয়েনা বাংলাদেশ কমিউনিটির এক পারিবারিক ঝগড়ার কারণে কোর্টের রায়ে দীর্ঘদিন ভিয়েনায় জেল খাটেন সেফাতউল্লাহ। মুক্ত হবার পর অস্ট্রিয়ার আইন অনুযায়ী তার লিগ্যাল হবার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে। স্ত্রী সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন সেফাতউল্লাহ।

সেফুদার কর্মকাণ্ডে তার পরিবার বিব্রত। সিফাত উল্লাহর স্ত্রী এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমরা এখন কি করতে পারি, এগুলো বন্ধ করার কি কোনো উপায় নেই? সে তো অসুস্থ কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষ কি এগুলো বন্ধ করে দিতে পারেনা? উনিতো আসলে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত।

তিনি যদি এই রোগে আক্রান্ত হন তাহলে চাকরি করছেন কীভাবে? সিফাত উল্লাহ একাই অস্ট্রিয়ার একটি বাসায় থাকেন। পরিপাটি হয়ে অফিসে যান, অফিস থেকে ফেরেন। তার ফেসবুক লাইভেও এসবের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তিনি অসলংগ্ন কথাবার্তা বলেন।

বাংলাদেশ পুলিশের মহা পরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারি জানান, এধরনের যারা দেশের বাইরে বসে দেশের সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করে নিজ দেশের সম্মান নষ্ট করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *