কুমিল্লার মামলায় খালেদার জামিন নাকচ

কুমিল্লার মামলায় খালেদার জামিন নাকচ

কুমিল্লা প্রতিনিধি  : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোল বোমা মেরে আটজনকে হত্যার মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত। কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. মোস্তাইন বিল্লাহ  মঙ্গলবার শুনানি করে এ আদেশ দেন বলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল হক জানান।

দুর্নীতি মামলায় কারাগারে থাকা খালেদা জিয়াকে গত ৮ এপ্রিল কুমিল্লার এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে তার আইনজীবীরা জামিনের এই আবেদন করেছিলেন।

জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়ার পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

ওই মামলায় হাই কোর্ট তাকে জামিন দিলেও দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আপিল বিভাগ সেই জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে।

কুমিল্লার আদালতের জামিন নাকচের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে বলে সানাউল হক জানিয়েছেন। মুক্তি পেতে হলে খালেদা জিয়াকে এখন দুই মামলাতেই জামিন পেতে হবে।

দশম সংসদ নির্বাচনের বছরপূর্তিতে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করতে বাধা পেয়ে দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় থেকে সারাদেশে লাগাতার অবরোধের ডাক দেন খালেদা জিয়া।

সেই অবরোধের সঙ্গে টানা ৯০ দিন হরতাল চলে। ওই কর্মসূচিতে বহু গাড়ি পোড়ানো হয়, অগ্নিসংযোগ হয় বিভিন্ন স্থাপনায়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায় শতাধিক মানুষ।

চলমান ওই ঘটনার মধ্যেই ২০১৫ এর ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুরে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি বাসে পেট্রোল বোমা হামলা হলে দগ্ধ হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান হাওলাদার পরদিন মামলা করেন। তদন্ত শেষে বিস্ফোরক আইনে ও হত্যার অভিযোগে আলাদা দুটি অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। দুই মামলাতেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়।

ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। এর মধ্যে খালেদা ঢাকার দুর্নীতি মামলায় কারাগারে যাওয়ায় কুমিল্লার মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

কুমিল্লার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত ওই আবেদন গ্রহণ করে গত ২৮ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ সেদিন তাকে হাজির না করায় বিচারক গত ৩১ মার্চ কারা কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর আদেশ দেয়।

সেই আদেশ অনুযায়ী গত ৮ এপ্রিল কারা কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, বিএনপি নেত্রী কারাগারে রয়েছেন। অসুস্থতার কারণে তাকে আদালতে হাজির করা যায়নি। পরে বিচারক সেদিন খালেদা জিয়াকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *