৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৫শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

কেন তরুণীরা সৌদি আরব ছাড়তে চান!

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : রক্ষণশীল দেশ সৌদি আরবে নিজের বাড়িতে নির্যাতন এবং দমন পীড়নের অভিযোগ তুলে প্রতিবছর শতশত নারী পশ্চিমা দেশগুলোয় পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অনেকের এখন পছন্দের জায়গাগুলোর একটি যুক্তরাজ্য। এমনই কয়েকজন নারী জানিয়েছেন, স্বাধীনতা আর উন্নত জীবনের আশায় তারা সমপ্রতি যুক্তরাজ্যে এসেছেন। সৌদি আরব থেকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় প্রার্থীর সংখ্যা ২০১৪ সালের পর থেকে দ্বিগুণ হয়ে গেছে বলে জানা তারা।

কিছুদিন আগে সৌদি আরবে নিজের পরিবার থেকে পালিয়ে থাইল্যান্ডের একটি হোটেল কক্ষে দরজা বন্ধ করে বসেছিলেন রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনান, যে ঘটনা সারা বিশ্বের নজরে পড়েছিল। পরে তিনি কানাডায় আশ্রয় পান। তার মতো দেশটির অনেক পরিবার থেকে প্রতিবছর কয়েক’শ নারী পালিয়ে আসছেন অস্ট্রেলিয়া, কানাডা বা ইউরোপে।

কার্ডিফে এরকম একজন ১৯ বছর বয়সী তরুণীর পোশাক দেখে যুক্তরাজ্যের আর কোনো তরুণীর সঙ্গে তার পার্থক্য পাওয়া যায় না। যদিও তার পারফিউমটি সৌদি আরবের। নাম প্রকাশ না করে এ তরুণী বলেছেন, আমার বাবা আমাকে জোর করে ধর্মীয় নিয়ম-কানুন পালন করতে বাধ্য করতেন। কিন্তু একবছর আগে আমি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছি। অভিভাবকত্ব আইনের কারণে আমার জীবন নিয়ন্ত্রণ করতেন আমার বাবা। সামান্য জিনিসের জন্যও তার কাছে চাইতে হতো, যা একজন নারী হিসাবে আমার কাছে অপমান বলে মনে হতো।

গত বছর একজন নারীর কানাডায় পালিয়ে যাওয়া দেখে তিনি উৎসাহিত হন। তার পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে যাওয়া পর্যন্ত তাকে ধৈর্য ধরতে হয়। ফেরার পথে তারা যখন লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে ট্রানজিট নেন, সেই সময়টিকে তিনি পালানোর জন্য বেছে নেন। সৌদি আরব ছাড়তে চাওয়া এই তরুণীরা অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন আর একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ব্যবহার করে তাদের পালানোর ব্যাপারে আলোচনা করে থাকে। এখন পর্যন্ত তিন’শর বেশি নারী এই ওয়েবসাইটে গিয়ে আশ্রয় আর পালানোর পথ বিষয়ে পরামর্শ চান। ওই ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র নারীরাই নয়, অনেক পুরুষও সৌদি আরব ছাড়তে চান।

সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, নারীদের জন্য পুরুষ অভিভাবকের সম্মতি বাধ্যতামূলক। যার মানে বিয়ে, পাসপোর্ট করা বা বিদেশ ভ্রমণ করতে হলে একজন পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি লাগবে। তিনি বাবা, স্বামী, ভাই বা কখনো সন্তান হতে পারেন। যদিও পালিয়ে অন্য দেশে আসা তরুণীদের মাতৃভূমি সৌদি আরবে গত কয়েক বছরে পরিবর্তন এসেছে। যেমন নারীদের গাড়ি চালনা, ভোট দেওয়া আর স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অনেকের জন্য এগুলো পর্যাপ্ত নয়।

সূত্র : বিবিসি

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com