পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্ব তাবলীগের কাজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাম অনন্য উচ্চতায় বিশ্বজুড়ে। কারণ এখানেই বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। টঙ্গীতে জায়গা সংকুলানের কথা চিনতা করেই কিন্তু দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয় ইজতেমা। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, মাওলানা সাদ কান্ধলবীকে নিয়ে দুই গ্রুপে অবস্থান নেন বাংলাদেশের তাবলীগের সাথীরা। তবে নিজামুদ্দীন মার্কাজ অনুসরণ করেন এমন তাবলীগের সাথীদের দাওয়াত ও তাবলীগের কাজে বার বার বাধা আসছিল। ঢাকার মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিংএ মাঠের কাজ আশিভাগ সমাপ্ত করার পরও তাবলিগের সাথীরা ঢাকা জেলা ইজতেমা করতে পারেননি। বাধারমুখে পড়ে ইজতেমা করতে না পেরে শেষে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে লাখো মুসল্লি নিয়ে শুরু হলো ঢাকা জেলা ইজতেমা।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে পুলিশ ও নিজামুদ্দিনবিরোধী আলেম ও মাদরাসা ছাত্রদের বারবার বাধার মুখে তাবলীগের সাথীরা জিকিরের সাথে বাধভাঙ্গা স্রোতের মতো মাঠে প্রবেশ করে। ইজতেমাকে ঘিরে ঢাকা জেলার মুসল্লীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে বলে দেখা যায়। ফলে গভীর রাত থেকে যেভাবে মানুষের ঢল ছিল কেরাণীগঞ্জের মাঠের দিকে তা ছিল চোখে পড়ার মতো ছিল।
তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে নিজামুদ্দিন মার্কাজবিরোধী কিছু সংখ্যক আলেম ও মাদরাসা ছাত্ররা নিরিহ তাবলিগের সাথীদের উপর নানান নির্যাতন ও দ্বীনী কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মুসল্লীদের মাঝে একটি চাপা ক্ষোভ কাজ করে আসছিল বহুদিন থেকে। ঢাকা জেলা ইজতেমার জন্য এসব বাধার কারণে চারবার স্থান বদল করতে হয়েছে তাবলীগ সাথীদের। সবশেষ গত সাপ্তাহে ঢাকার মিরপুরের ইষ্টান হাউজিংএ মাঠের কাজ আশিভাগ সমাপ্ত করেন তাবলিগের সাথীরা। এরপরও সেখানে বাধারমুখে ইজতেমা করতে পারেনি তারা।
গত শুক্রবারে প্রায় তিন হাজার তাবলীগের সাথীরা স্বেচ্ছাশ্রমে কেরাণীগঞ্জে ময়দানের কাজ শুরু করেন। শতশত অযুখানা, টয়লেট, ও বিশাল সামিয়ানা তৈরি করেন। কিন্তু রাতে একশ্রেণীর আলেমগণের রাজনৈতিক চাপে পুলিশ তা বন্ধ করে দিয়ে তাবলীগের সাথীদের ময়দান থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করে। ইজতেমা করার জন্য তাবলীগের মুরুব্বীরা অনেক চেষ্টাও করেও কোনো কূল পাচ্ছিল না।
ফলে নিরূপায় হয়ে তাবলীগের মুরুব্বিগণ গত বৃহস্পতিবার রাতে তাবলীগের সাথীদের চাপা ক্ষোভ মিটাতে কেরাণীগঞ্জে তাবলীগের ইজতেমা করার সিদ্ধান্ত নেন। ঘোষণার পরপরই বৃহস্পতিবার রাত থেকে ইজতেমার ময়দান কেরাণীগঞ্জের খোলামোড়ে মুসল্লিদের ঢল নামতে থাকে। বাদ ফজর কাকরাইলের মুরুব্বি মাওলানা মুহাম্মদউল্লার আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, নিজামুদ্দীন মার্কাজের মুরুব্বী বিশ্ব আমীর মাওলানা সাদ কান্ধলবীর বিরুদ্ধে তার কিছু বয়ানের বিরোধিতা করে আলেমদের একটি গ্রুপ আলমী শূরা গঠন করেন। ফলে সমগ্র বিশ্বেই শুরু হয় বিভাজন। এরইমধ্যে আসে দারুল উলূম দেওবন্দের পক্ষ থেকে একটি পরিপত্র। যেখানে মাওলানা সাদকে কিছু বিষয়ে রুজু করতে বলা হয়। মাওলানা সাদ রুজুও করেছেন বলে জানা যায়। তবে খোদ ভারতে এ নিয়ে বড় ধরনের বাগবিতণ্ডা না হলেও বাংলাদেশে হয়ে গেছে তুলকালাম কাণ্ড। এসবের জের ধরেই এ দেশে তাবলীগ হয়ে পড়েছে দুই দলে বিভক্ত। একদল আলীম শূরা আর আরেক দল মার্কাজ নিজামুদ্দীনকে অনুসরণ করে তাবলীগের কাজ পরিচালনা করছে।
গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ


