পাথেয় রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরামের দুইজন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই দুইজন দুইজন সদস্যের শপথ নেয়া, না নেয়া নিয়ে শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে দিন দিন। এই নিয়ে দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেন নির্বাচিত এমপিদে শপথ নেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু হাঁটছেন ভিন্ন পথে।
৫ জানুয়ারি শনিবার গণফোরামের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে দলের দুই সদস্যের শপথ নেয়ার বিষয়টির সুরাহা না করেই সভা মূলতবি করা হয়। দুই-তিন দিনের মধ্যে আবারও মূলতবি সভা বসবে বলে জানা গেছে। মূলতবি সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমাদের দলের নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যকে আমরা দলীয় ফোরামে অভিনন্দন জানিয়েছি। তারা যেহেতু এতো খারাপ নির্বাচনী পরিবেশের মধ্যেও নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে তাদের শপথের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের দিকেই আমরা যেতে চাই।
রাজধানীর শিশু পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপি কেন্দ্রীয় কমিটির এ সভা শেষে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে গণফোরাম সভাপতি বলেন, জনগণ দেশের মালিক, ৩০ ডিসেম্বরে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ যথাযথ করতে পারেনি। তাদেরকে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ফলে এবারও দেশে প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা যদি শপথ না নেয়- অথচ আপনারা বলছেন আপনাদের দুইজন শপথ নেবেন, তাহলে বিষয়টি সাংঘর্ষিক হয়ে গেল কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল বলেন, সেটা আলোচনার বিষয়। আমরা মনে করি তারা দুইজনওতো সংসদে সমালোচনা করে ভাল ভূমিকা রাখতে পারে।
অথচ দুই দিনে আগে গত ৩ জানুয়ারি গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের সাধারণ মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেছেন, আমরা যেহেতু এই নির্বাচন প্রত্যাখান করেছি, ফলে কারও শপথ নেওয়ার প্রশ্নেই আসে না। তিনি বলেন, এরপরও কেউ যদি শপথ নেয়, তাহলে সেটা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করা হবে। দলের বর্ধিত সভায়ও মন্টু প্রায় একই বক্তব্য দেন বলে জানা গেছে।
গণফোরামের সভায় উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘স্যার’ ইতিবাচক শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তবে বিষয়টি পরিস্কার করেননি। হাতে আরও সময় আছে। সামনের সভায় হয়তো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। জানতে চাইলে গণফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ বলেন, আজকে আমাদের সভা মূলতবি করা হয়েছে। বিদুৎ ছিল না। তাই সভায় বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ হয়নি। খুব শিগগিরই আবার মূলতবি সভা বসবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়নি। সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমর্থনে গণফোরামের সুলতান মো. মনসুর ও মোক্কাবির হোসেন খান নির্বাচিত হয়েছেন।


