২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

ক্রাইস্টচার্চ ব্যর্থতা ঢাকতেই তাকী উসমানীকে হামলা!

ক্রাইস্টচার্চ ব্যর্থতা ঢাকতেই তাকী উসমানীকে হামলা!

আবদুস সালাম : মুফতি তাকী ওসমানীর উপর হামলার সংবাদটি শুনে আঁতকে ওঠি। নিউজিল্যান্ডে সেদিন যখন ভিন্ন দুই ধর্মানুসারীদের মাঝে সহানুভূতির অভূতপূর্ব এক নজির স্থাপিত হতে যাচ্ছিলো ঠিক তখনই এই নারকীয় হামলার ঘটনা ঘটে পাকিস্তানের গুলশানে ইকবালে।

দুই ঘটনার মাঝে যোগসূত্র আছে এ কোন নিছক কাকতালীয় ব্যাপার নয়৷

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণ কর্তৃক মুসলমানদের প্রতি এই যে সহানুভূতি প্রদর্শন, এতে কিন্তু উগ্রবাদীরা হতাশ এবং চরম নাখোশ হয়েছে। এই ঘটনায় তাদের কুমতলব সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। যার ফলে তারা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকিও দিচ্ছে।
ক্রাইস্ট চার্চে মুসলমানদের অন্তরে খৃস্টানদের প্রতি বিরূপ ও সহিংস মনোভাব জন্ম দেওয়াই ছিলো আক্রমণের উদ্দেশ্য। কিন্তু জাসিন্ডা আরডার্ন এর দূরদর্শীতায় নিউজিল্যান্ডবাসীর উপর বলা যায় খৃষ্টানদের উপর প্রতিহিংসার বদলে মুসলমানদের মনে এক ধরনের ভালবাসার জন্ম নিয়েছে। ধর্মীয় সহিংসতা ভুলে এই ঐক্য আর সহমর্মিতার দিকে যখন পৃথিবী ক্রমধাবমান ঠিক তখনই পুরোনো তরিকায় নতুন জঙ্গি হামলা।

দুনিয়ার উগ্রবাদীরা মানসিকতায় সবাই এক; হোক না সে অস্ট্রেলিয়ান কোন শ্বেতাঙ্গ খৃষ্টান কিংবা পাকিস্তানী কোন বাদামী বর্ণের মুসলমান। সবার উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন।
তাকী উসমানীকে হত্যা করতে পারলে সবচেয়ে লাভবান হতো এই উগ্রবাদীরাই; একদিকে যেমন তারা মুসলমানদেরকে অন্য কোন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে পারতো, ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই হামলার পিছনে ভারতকে দায়ি করে পাকিস্তানসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আলেমভক্ত সাধারণ মুসলমানদের ভারত ও হিন্দুদের উপর ক্ষেপিয়ে তোলা শুরু হয়ে গেছেও বটে।

অপরদিকে একজন হকপন্থী আলেমকে পাকিস্তান থেকে থেকে খতম করে ফেলা যেতো। পাকিস্তানের জঙ্গিদের একথা অজানা নয় যে, তকী উসমানী যদি কোনভাবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একবার মুখ খুলে ফেলেন তাহলে পাকিস্তানে তাদের কবর রচিত হবে। তাই বিভিন্নভাবে তারা তাঁর মুখ বন্ধ রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছে আবার তাঁর সরব হয়ে উঠার ভয়ে তটস্থও থেকেছে। সম্প্রতি তাকী উসমানী ও রফি উসমানী যখন সরব হয়ে উঠতে শুরু করেছিলেন ঠিক তখনই তাদেরকে চিরতরে নীরব বানিয়ে দেওয়ার জন্য জঙ্গিরা একটি ঝোঁপ বুঝে কোপ দিলো। একবার তারা ব্যর্থ হয়েছে বলে শতবার চেষ্টা করে দেখবে না এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই।

জঙ্গিবাদের আঁতুড়ঘর পাকিস্তানে আলেম উলামারা কোনকালেই নিরাপদ ছিলেন না। অতীতে আরো কয়েকজন আলেম উলামাকে জঙ্গিরা নির্মমভাবে শহীদ করেছে। ইউসুফ লুধিয়ানবী রহ. এর রক্তের দাগ এখনো মুছে যায়নি পাকিস্তানের মাটি থেকে। যেই দেশে নারীরা অনিরাপদ দিনেদুপুরে শিশুদের উপর বিস্ফোরিত হয় গোলাবারুদ সেই দেশে তাকী উসমানী কতটুকু নিরাপদ সহজেই অনুমান করা যায়।

পাকিস্তান জন্মের সত্তর বছর অব্দি মুফতি তাকী ওসমানী ও রফী ওসমানী ভ্রাতৃদ্বয় শান্তিতে কোনদিন বালিশে মাথা পেতে ঘুমোতে পেরেছেন কিনা খুব জানতে ইচ্ছে করে। জানতে ইচ্ছে করে, এই অশান্তির ভূমিতে ‘হিজরত’এর মত পুণ্যময় সিদ্ধান্তে পূর্বসূরীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা তাঁরা কতটুকু আদায় করতে পেরেছেন?

লেখক : আন্তর্জাতিক ধর্মীয় বিশ্লেষক

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com