পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : এবার ইয়াবাসহ পুলিশের এসআইকে ধরলেন এলাকাবাসী। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন নামে পুলিশের এ এএসআইকে ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। এ সময় সোহেল নামে তার এক সহযোগীকেও আটক করা হয়।
আটক মোশারফ হোসেন চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কর্ণফূলী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। তার বাড়ি উপজেলার বাকখালী এলাকায়।
০৫ নভেম্বর সোমবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের পূর্ব বাকখালী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ যেখানে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে সারাদেশে অভিযান চালাচ্ছে নিত্য। সেখানে এসআইএর এমন ঘটনা জনমনে সৃষ্টি করেছে অনাস্থা। বিব্রত পুলিশ প্রশাসনও। স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের প্রভাব খাটিয়ে মোশারফসহ তার কয়েকজন সহযোগী সৈয়দপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করতেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে বিষয়টি কয়েকবার জানালেও কোন প্রতিকার পাননি। মোশাররফ এভাবে অবাধে ইয়াবা বিক্রি করে আসলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। সোমবার ইয়াবা বিক্রির সময় তাকে হাতেনাতে তাকে আটক করে এলাকাবাসী। এ সময় তার সহযোগী সোহেলকেও আটক করে গণধোলাই দেওয়া হয়। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
গণপিটুনির পর আহত সোহেলকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল মোতালেব বাদী হয়ে সোমবার রাতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোশারফকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী বলেন, মোশারফ স্থানীয় বাসিন্দা। সে পুলিশের চাকরির প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় নানা অপরাধ কর্মে জড়িত । অবাধে এলাকায় মাদক বিক্রি করতো মোশারফ। তার কারণে অন্যান্য মাদক বিক্রেতারাও সাহস পেয়ে গেছে। পার্টনার হিসেবে সে মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে এ ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে বহুদিন ধরেই। সোমবার রাতে ইয়াবা বিক্রির সময় স্থানীয় জনতা এক সহযোগীসহ মোশারফকে আটক করে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোশারফ ও তার সহযোগীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় মোশারফের কাছে থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় মোশারফকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কয়েকজননের সঙ্গে তার জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ আছে বলে মোশারফ জানিয়েছে। এ বিরোধের জের ধরে তাকে ফাঁসানোর জন্য এটি করা হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্ণফূলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাসান ইমাম মুঠোফোনে বলেন, মোশারফ কর্ণফূলী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। তার বাড়ি সীতাকুণ্ডের বাকখালী এলাকায়। নিজ এলাকায় ইয়াবাসহ স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে বলে শুনেছি।


