২৫শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

টিকা নিয়েছে দেশের ১ শতাংশ মানুষ

করোনা টিকা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস রুখতে দেশে চলছে টিকাদান কার্যক্রম। এ করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর এক শতাংশ চলে এসেছে বলে জানিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর।

তিনি বলেন, করোনা প্রতিরোধে পৃথিবীর অনেক দেশেই টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে খুব অল্প দেশই মোট জনসংখ্যার এক শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করেছে।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ‘করোনা সংক্রমণের গতিবিধি ও টিকা’ শীর্ষক বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানান। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন তিনি।

দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয়ভাবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। সে থেকে গতকাল ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৩ জন, যা কীনা বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর এক শতাংশের চেয়েও কিছুটা বেশ।

ডা. আলমগীর বলেন, ‘যেসব দেশে টিকা দেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে ১৫টির বেশি দেশ মোট জনসংখ্যার এক শতাংশের বেশি টিকার আওতায় আনতে পেরেছে। বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। ইসরায়েল এক শতাংশের চেয়েও কিছু বেশি মানুষকে টিকা দিয়েছে কিন্তু তাদের জনসংখ্যা অনেক কম। এছাড়া যুক্তরাজ্য ২৩ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে পেরেছে। আবার আমাদের আগে টিকা কার্যক্রম শুরু করার পরেও জনসংখ্যা বেশি বিধায় ভারতেও ওই টার্গেটে যেতে পারেনি।’

ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফের সঞ্চালনায় সংলাপে ইউজিসি অধ্যাপক ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ও কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সালান, একুশে পদকপ্রাপ্ত অনুজীব বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সমীর কুমার সাহা, স্বাস্থ্য অধিদফতরের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ডা.আবু জামিল ফয়সাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বিএইচআরএফের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রাব্বি অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

ডা. আলমগীর আরও বলেন, ‘কোভ্যাক্স থেকে মোট জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশকে টিকা সরবরাহ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে এটি বেড়ে ২৭ শতাংশ হতে পারে। দেশে এখন ক্লাস্টার ভিত্তিক সংক্রমণ চলছে কীনা তা এ সপ্তাহের মধ্যেই জানা যাবে।’

গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের কম জানিয়ে ডা. আলমগীর বলেন, ‘আমরা স্বস্তির একটি পরিবেশে আছি, তবে এর মানে এই নয় সংক্রমণ কমে গেছে। বিশ্বের অনেক দেশেই সংক্রমণের হার কমে যাওয়ার পর পুনরায় তা বেড়েছে। তাই আমাদের ঢিলেমি দিলে চলবে না। টিকা নেওয়ার পাশাপাশি মাস্ক পরা, ঘনঘন সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া, জনসমাবেশ এড়িয়ে চলার মতো স্বাস্থ্যবিধিগুলো আমাদের মানতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে টিকা মৃত্যু কমাবে।’

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা একটি অন্যতম পন্থা হলেও এটি একমাত্র পন্থা নয়, মন্তব্য করেন ডা. আলমগীর। সংলাপে অধ্যাপক ডা. এবি এম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সংক্রমণ কম স্বস্তির বিষয় হলেও আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনও সুযোগ নেই। মৃত্যুর মিছিল উঠা নামা করছে। এখন অনেকেই আমাদের দেশে আসবে। ভাইরাস যাতে আমদানি না হয় সেই বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। টিকা দেওয়ার পাশাপাশি মাস্কও পরতে হবে। দু’টি মাস্ক পরলে তা আরও বেশি কার্যকর বলে জানা যাচ্ছে।’

সংক্রমণ কমলেও ঝুঁকিমুক্ত হইনি ভবিষ্যতে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, ‘রাজনৈতিক, সামাজিকসহ বিভিন্ন জনসমাবেশ হচ্ছে-এগুলো বন্ধ করতে পারছি না। তাই এসব জনসমাবেশ বন্ধ করতে, ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকতে সরকারকে এসব বিষয়ে জোর দিতে হবে, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠনগুলোকে চাপ দিতে হবে।’

ডা.আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘সংক্রমণ কমানো এবং টিকা কার্যক্রম সফল করতে সমাজপতি থেকে শুরু করে ধর্মীয় নেতাসহ সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে। টিকাদান কর্মসূচিতে নারী, বস্তি এলাকা, ভাসমান মানুষ এবং নিম্নবিত্তরা পিছিয়ে রয়েছে। তাদেরকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে।’

অধ্যাপক ড. সমীর কুমার সাহা বলেন, ‘দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর আগেই সিকোয়েন্সিংয়ের মেশিন ছিল। কিন্তু এই কাজে সফলতা দেখাতে পারিনি। কিন্তু করোনা কালে সবাই মিলে যখন কাজটি শুরু করি তখন বড় একটি কাজ হলো। এই বিষয়ে আমাদের আরও বেশি মনযোগ দিতে হবে।’

/এএ

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com