তালীমে জেহনিয়াতের মধ্যে দৃঢ়তা আসে : জমিয়ত মহাসচিব

তালীমে জেহনিয়াতের মধ্যে দৃঢ়তা আসে : জমিয়ত মহাসচিব

পাথেয় রিপোর্ট : ১২ মে বাদ মাগরিব ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার তা’লীমী হালকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার মহাসচিব মাওলানা আবদুর রহীম কাসেমী বলেন, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা বিশুদ্ধ জেহনিয়াত গঠনের মহান মিশন নিয়ে ময়দানে কাজ করছে। একজন আলেমের জন্য তাঁর আল্লাহ ও রাসূল সা. প্রদত্ত পরিচয়, তাঁর বৈশিষ্ট্য, তাঁর জিম্মাদারী এবং তাঁর ক্ষেত্র ও জিম্মাদারী পালনের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক অবগতি লাভ করা, আর সে অনুযায়ী সকল কার্যক্রম গ্রহণ করার মানসিকতাই হচ্ছে সঠিক মানসিকতা এবং বিশুদ্ধ জেহনিয়াত।

দাওয়াতে জেহনিয়াত গঠনের জযবা পয়দা হয় উল্লেখ করে জমিয়ত মহাসচিব বলেন, তা’লীমে জেহনিয়াতের মধ্যে দৃঢ়তা আসে।

কী কী তালীম করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তা’লীমী হালকার আলোচ্য বিষয় হচ্ছে “ঈমান”। প্রশ্ন হতে পারে তা’লীমী হালকায় প্রথমেই কেন ঈমান বিষয়টিকে রাখা হয়েছে? উত্তর হচ্ছে মুসলমান হিসাবে সকলের উপর প্রতিটি কাজ ঈমান ও আল্লাহ কেন্দ্রিক করা অপরিহার্য। ঈমানের স্বাদ আস্বাদিত না হলে এরূপে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সামনে পরম ঐকান্তিকতা নিয়ে কোন কাজ করা সম্ভব হবেনা। আর ঈমানের স্বাদ তখনই হাসিল হবে যখন বেশি বেশি ঈমানের আলোচনা হবে। এজনই ঈমানের আলোচনাকেই প্রথমে রাখা হয়েছে।

তা’লীমী হালকার আলোচনায় মাওলানা আবদুর রহীম কাসেমী বলেন, প্রথমেই আমাদেরকে জানতে হবে ঈমানের মৌলিক বিষয় হচ্ছে তিনটি। তাওহীদ, রিসালাত এবং আখেরাত।

আবার তাওহীদ মৌলিকভাবে তিন প্রকার। তাওহীদ ফিজ্জাত, তাওহীদ ফিস সিফাত এবং তাওহীদ ফিল ইবাদাত।

এভাবে ধারাবাহিকতার সঙ্গে আলোচনা করে করে শুনে শুনে বিষয়টিকে আত্মস্ত করতে হবে। যেহেতু আমাদের সম্মানিত চেয়ারম্যান মহোদয় ঈমান নামক যে বইটি লিখেছেন, সেটি সাবলীল বর্ণনা ভঙ্গির মাধ্যমে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী করে উপস্থাপন করেছেন সেহেতু আমরা এ বইটিকে তা’লীমের সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করেছি। সুতরাং সেটি দিয়েই আমরা শুরু করবো। আল্লাহ আমাদের সকল কার্যক্রমকে দয়া করে কবুল করে নেন। আমীন।ত
দাওয়াতের পদ্ধতি হচ্ছে হিকমত ও সুন্দরতম উপস্থাপন।

১২ মে শনিবার ময়মনসিহংহের মরকাজুত তাহফীজ ইন্টাঃ মুক্তাগাছায় অনুষ্ঠিত তা’লীমী হালকার উদ্বোধনী সভায় বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা মহাসচীব মাওলানা আবদুর রহীম কাসেমী বলেন, দাওয়াতের কুরআনী পদ্ধতি হচ্ছে হিকমতের সঙ্গে এবং সুন্দরতম উপস্থাপনের মাধ্যমে দাওয়াত পেশ করা। যাতে করে দায়ীর হৃদয় খূব আকৃষ্ট হয়। এর বাইরে দাওয়াতের কোন সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। প্রত্যেকে এ ব্যাপারে মুজতাহিদ।

তবে আমরা আমাদের বর্তমান উলামায়ে কিরামের অনৈক্য, সকল কাজে ব্যর্থতা, আওয়ামের সাথে সম্পর্ক বিনষ্ট করা এবং পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্বভাব-সভ্যতার চরম অবক্ষয় রোধে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহনে উলামায়ে কিরামের ব্যর্থতাকে মাদঊর সামনে তুলে ধরে এ কথা বলা যে, এর অন্যতম কারণ হলো আমাদের আত্মপরিচয় এবং বৈশিষ্ট্য সমূহকে অনুধাবন করতে না পারা। তারপর উলামায়ে কিরামের পরিচয় এবং বৈশিষ্ট তুলে ধরে তাকে আকৃষ্ট করা। এভাবেও দাওয়াতের কাজকে এগিয়ে নেয়া যেতে পারে।

তালীমী হালকা উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন ময়নসিংহ জেলা জমিয়তের সদস্য সচিব মাওলানা উবায়দুর রহমান।

https://scontent.fdac5-1.fna.fbcdn.net/v/t1.15752-9/32293835_844292405774679_1712091843858006016_n.jpg?_nc_cat=0&oh=07bc6542c9fa5a518e8acc196c7c49f1&oe=5B8CB212

তথ্য সংগ্রহ : আদিল মাহমুদ                                              সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *