তুরস্ক থেকে ফিরেছে ৬ লাখ সিরীয় শরণার্থী

তুরস্ক থেকে ফিরেছে ৬ লাখ সিরীয় শরণার্থী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই সপ্তাহের শুরুতে ঘোষণা করেছেন যে প্রায় ৬ লাখ সিরীয় শরণার্থী তুরস্ক থেকে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় ফিরে গিয়েছে। খবর দ্য নিউ আরব।

এরদোয়ান এর আগে প্রায় ১০ লাখ সিরীয় শরণার্থীকে তাদের দেশে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার জন্য তার সরকারের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে। তিনি দাবি করেছিলেন, সিরিয়ার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন অব্যাহত থাকবে।

তুরস্কে ৩৭ লাখেরও বেশি সিরিয়ান শরণার্থী রয়েছে। এদের বেশিরভাগকে শরণার্থী মর্যাদা না দিয়ে ‘অস্থায়ী সুরক্ষা’ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তুরস্কে তাদের চলাচলকে সীমিত করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষকে যে কোনো সময় তাদের সিরিয়ায় ফেরত পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার কিছু অংশে ফিরে আসা শরণার্থীদের জন্য কয়েক হাজার আবাসন ইউনিট তৈরি করেছে তুরস্ক।

সম্প্রতি তুরস্কের একটি শরণার্থী এসোসিয়েশন জানিয়েছে, কিমলিক নামে পরিচিত সুরক্ষা কার্ডধারী সিরীয়দের সংখ্যা চলতি আগস্ট মাসে ৩৩ লাখ ৩০ হাজার। অথচ গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ছিল।

গত মাসের শেষের দিকে তুর্কি কর্তৃপক্ষ ইস্তাম্বুলে বসবাসকারী অনিবন্ধিত সিরীয়দের শহর ছেড়ে যাওয়ার জন্য এবং যে প্রদেশে তারা প্রথমে নিবন্ধন করেছিল সেখানে ফিরে যেতে প্রায় দুই মাস সময় দিয়েছে। ইস্তাম্বুলে তুরস্কের অন্য যে কোনো শহরের তুলনায় বেশি সিরীয় শরণার্থী বাস করে। তুরস্কের বৃহত্তম এই শহরে ৫ লাখের বেশি শরণার্থী বাস করে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ১২ বছর ধরে চলমান এই সংঘাতে তুরস্কও ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়েছে। উত্তর সিরিয়ার বিশাল অংশ জুড়ে তুরস্ক সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করছে। সিরিয়ার যুদ্ধে ৫ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। এছাড়া লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *