পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া, আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাখনৌয়ের দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামার শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের বর্বরতার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলমান। শুধু মুসলমানরাই নয়, বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন হিন্দু শিখ বৌদ্ধ খৃষ্টান এবং অনান্য ধর্মাবলম্বীরাও।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) ভারতের দেওবন্দে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে জমিয়তে উলামা হিন্দ সাহারানপুর জেলা শাখা। সমাবেশে জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী পুলিশ প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তোমাদের আচরণ দুঃখজনক! যদি তোমরা মনে করো তোমাদের কাছে লাঠি আছে, তাহলে শুনে রাখো, আমাদেরও পিঠ আছে!
মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী বলেন, তোমাদের কাছে বন্দুক আছে, আমাদের আছে বুক। তোমাদের বন্দুকের গুলি একদিন শেষ হয়ে যাবে কিন্তু আমাদের বুক শেষ হবে না! তোমাদের অত্যাচারে আমরা দমে যাবো না, বরং দিনদিন আমাদের ঈমানী শক্তি বাড়তেই থাকবে ইনশাআল্লাহ্!
আমাদের লড়াই সরকারের বিরুদ্ধে, পুলিশের বিরুদ্ধে নয় জানিয়ে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সাহারানপুর জেলা জমিয়ত সভাপতি মাওলানা জহুর আহমাদ কাসেমী বলেন, আমাদের লড়াই সরকারের বিরুদ্ধে, পুলিশের বিরুদ্ধে নয়! পুলিশবাহিনী এবং প্রশাসন আমাদেরই প্রতিষ্ঠান। তাদের সাথে আমাদের কোন লড়াই নেই। তারা যেনো সরকারের গোলামী করতে গিয়ে আমাদের বিক্ষোভে বাধা না দেন!
এদিকে ২২ ডিসেম্বর রোববার দুপুরে ভারতের পশ্চিম বাংলার ধর্মতলায় ‘নো এনআরসি, নো কেএবি’ স্লোগানে স্লোগানে কেন্দ্রীয় সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে জমিয়তে উলামা হিন্দ পশ্চিমবাংলার সভাপতি ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, সম্মিলিতভাবে নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা জিতবো। বিশ্বের কাছে ১৩০ কোটি মানুষের এই রাষ্ট্রের মুখ পোড়াচ্ছে এ সরকার। এনআরসি এনআরসি জিগির তোলে তাদের অযোগ্যতা ও অদক্ষতাকে ঢাকতে চাচ্ছে।


