দারুল উলূম দেওবন্দের তালিমাত কর্মকর্তা ইয়াকুবের ইন্তেকাল
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের শুবায়ে তালিমাতের (শিক্ষা বিষয়ক দপ্তরে) প্রবীণ কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী ওরফে হাজীজী বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছে বিরান্নব্বই বছর। দিল্লীর ডেইলী হামারা সমাজ এ খবর প্রকাশ করেছে।
জানা যায়, শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.-এর যুগ থেকে দারুল উলুম দেওবন্দের শুবায়ে তালিমাত বা শিক্ষা বিষয়ক দপ্তরে কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে কাজ করছিলেন তিনি। পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দেওবন্দে পড়ার সময়ও তিনি ছিলেন। আল্লামা মাসঊদ তার ইন্তেকালে গভীর শোকও জানিয়েছেন।
ইয়াকুব আলী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি দীর্ঘ কাল “শুবায়ে তালিমাতের” দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেন কৃতিত্বের সাথে। বিশ্বস্ততার অনুপম দৃষ্টান্ত ছিলেন হাজীজী। তার বিশ্বস্ততার স্বীকৃতি স্বরূপ শেষ জীবন পর্যন্ত দারুল উলুম দেওবন্দে সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
দেওবন্দের উস্তাদদের বেতন-ভাতা তার মাধ্যমেই হস্তান্তর করা হতো। বেতন-ভাতা প্রদেয় স্বাক্ষর বইটি পেঁচিয়ে প্রত্যেকের নিকট গিয়ে পৌঁছে দিতেন। দীর্ঘ ৭৫ বছর দারুল উলুম দেওবন্দের খেদমত করে গেছেন হাজী ইয়াকুব।
দারুল উলূম দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু দিন যাবৎ হাজী ইয়াকুব সাহেবের স্বাস্থ্য ভালো যাচ্ছিল না। গত রাতে হঠাৎই তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। এরপর সকালে তিনি ইন্তেকাল করেন।
বলা হয়ে থাকে, শাইখুল আরব ওয়াল আজম হযরত সাইয়্যিদ হোসাইন আহমদ মাদানী রহ., মুফতী ইবরাহীম বলইয়াবী রহ.-এর সময় থেকেই তিনি দেওবন্দে কর্মরত আছেন।
হাজী ইয়াকুবের ইন্তেকালে দারুল উলূম দেওবন্দও শোকে মূহ্যমান হয়ে গেছে। দেওবন্দের উস্তাদগণ তারা শোক সন্তপ্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
তারা বলেন, হাজী ইয়াকুব সাহেব তার নিজের পুরো জীবনটাই দারুল উলূম দেওবন্দে দিয়ে দিলেন। আল্লাহ তাআলা তার খেদমাতকে কবূল করুন। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিন।
দারুল উলূম দেওবন্দে হাজী ইয়াকুব আলীর জন্য ইসালে সওয়াবের অনুষ্ঠানও করা হয়।
বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর ইয়াকুব আলীর নামাজে জানাজা দারুল উলুম দেওবন্দের মোলসুরী প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়।
সূত্র : ডেইলি হামারা সমাজ
অনুবাদ ও গ্রন্থনা : এলাহী সাফীন


