দোয়া পড়লে জলদি ঘুম আসে

দোয়া পড়লে জলদি ঘুম আসে

দোয়া পড়লে জলদি ঘুম আসে

মুস্তাফা জামান আব্বাসী : মন হাতড়ে দেখি, মন ভাল নেই। কি করে ভাল করা যায়? দোয়া পড়লে নাকি জলদি ঘুম আসে। সঙ্গে সঙ্গে মন ঘুমিয়ে পড়ে। দোয়ায় কাজ হল না। ভাবলাম মনের দোষ। দোষ খুঁজতে গিয়ে অর্ধেক রাত কেটে গেল। ভাল ভাল লোকদের নিয়ে আসলাম সামনে, যদি মন ভাল হয়। হঠাৎ দেখি মুন্সী রইস উদ্দিন, ঝাঁকড়া চুল, হাতে একটা লাঠি, আমাকে গান শিখাতে এসেছেন। সন্ধ্যে সাতটা। এই তার অভ্যাস। আটটায় উঠে যাবেন। চা, পান, সিগারেট কিছুই খান না।

প্রথমেই সারগাম। আগেরগুলো প্রাকটিস হয়েছে কিনা যাঁচাই করতেন। সেগুলো না হলে বকা খেতাম। যতক্ষণ সেগুলো রপ্ত হচ্ছে ততক্ষণ রেহাই নেই। তা না হলে নতুন লেসন পাব না। ভীষণ কড়া, একটু হাসতেন না। আমার বোন এই কারণে তার কাছে দু’তিন ক্লাশ করেই ছেড়ে দিয়েছেন। আমি ধরে রেখেছি। তার বইটা এখনও আমার সামনে। স্যার বললেন, অনেক দিন প্রাকটিস কর নি। তুমি কি গান বাজনা ছেড়ে দিয়েছ? আমি বললাম, স্যার আমার একটা ষ্ট্রোক করেছিল। তাই সব ভুলে গেছি। আবার সা রে গা মা থেকে শুরু করতে হবে। গান শুরু করলেই গলা বদরুল হাসানের মত [কামরুল হাসানের ভাই] অন্যদিকে ছোটে। উনি আমাকে আবৃতি শেখাতেন। আবৃতি ও গান দুটো আলাদা।

মুন্সী রইস উদ্দিন জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এতদিন পরে আবার গান শুরু করলে কেন? সবই দেখি ভুলে গেছ। তোমার আব্বাকে ডাক। বললাম, আব্বা তো নেই। বাজারে গেছেন। উনি বললেন, সাইকেল নিয়ে গেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তা হলে তো দেরি হবে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে হারমোনিয়াম নিয়ে বসলাম। উপরের গান্ধার পর্যন্ত অনায়াসে গেল। মুন্সী রইস উদ্দিনের জন্যে দরূদ পাঠালাম। যারা আমার নিকটের তাদেরকে এইভাবে আমি কাছের বলে পাই। আজ সকালে পিয়ার কণ্ঠস্বর শুনে চমকে উঠি। হুসনি আরা হক আমাদের দু’জনকে বড় ভালবাসতেন। যার তুলনা হয় না। উনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আসমা তার সবচে’ প্রিয় ছাত্রী। আর আমি তার প্রিয় ভাই। চির জীবনের জন্যে আজ ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল। আর দেখা হবে না।

মু. জা. আ.
২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *