দ্য ট্রু মুসলিমস আইডেন্টিটি | তৃতীয় পর্ব

দ্য ট্রু মুসলিমস আইডেন্টিটি | তৃতীয় পর্ব

  • মূল: মুফতী সায়্যিদ মুহাম্মদ সালমান মানসুরপুরী
    অনুবাদ: মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
অহঙ্কার ও দাম্ভিকতা থেকে দূরে থাকতে হবে

আল্লাহ তায়ালা অহঙ্কার ও দাম্ভিকতা একদম পছন্দ করেন না। পবিত্র কালামে পাকে ইরশাদ হয়েছে, ‘অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো উদ্ধ, অহংকারীকে পসন্দ করেন না।’ (সুরা: লুকমান, আয়াত: ১৮)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘ভূপৃষ্ঠে দম্ভভরে বিচরণ করো না, তুমি তো কখনই পদভরে ভূপৃষ্ঠ বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বতপ্রমাণ হতে পারবে না।’ (সুরা: বানু ইসরাইল, আয়াত: ৩৭)

আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেন, ‘অহঙ্কারীদের আবাস্থল কি জাহান্নাম নয়?’ (সুরা: যুমার, আয়াত: ৬০)

অন্যত্র ইরশাদ করেন, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ অহংকারীদের পসন্দ করেন না।’ (সুরা: নাহল, আয়াত: ২৩)

অসংখ্য হাদীসেও অহংকারের নিন্দা করা হয়েছে। এখানে সামান্য দু’একটি হাদীস উল্লেখ করা হলো। (তিন শিরোনামে তিনটি হাদীস উল্লেখ করা হলো।)

অহংকার কেবল আল্লাহ করতে পারেন

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, অহংকার আমার চাদর, আজমত ও বড়ত্ব আমার লুঙ্গি; যে এ দুটি বস্তু নিয়ে টানাটানি করবে তাকে আমি জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। (আবু দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৪০৯০)

অর্থাৎ বড়ত্ব ও অহংকার আল্লাহর বিশেষ সিফাত। এ দুটি সিফাত অন্য কোনো মাখলুকের হতে পারে না। যেমন পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আসমান যমীনে বড়ত্ব কেবল তাঁরই।’ (সুরা: জাসিয়া, আয়াত: ৩৭)

এখন সৃষ্টিজীবের মাঝে যে কেউ নিজেকে বড় বলে দাবি করবে আল্লাহ তা একেবারেই পসন্দ করবেন না। এ বিষয়টির উদাহরণ দিতে গিয়ে হাকীমুল উম্মত ইমাম গাযালি রহ. বলেন, এটা হচ্ছে এমন যে, কোনো তুচ্ছ গোলাম ধৃষ্টতাপূর্বক বিরাট বাদশাহর মুকুট পরে বাদশার আসনে গিয়ে বসে পড়ে। এমন গোলাম নিঃসন্দেহে বাদশার চোখে বেয়াদব ও শাস্তিযোগ্য মস্ত অপরাধী বলেই বিবেচিত হবে। তো যে ব্যক্তি আল্লাহর বিশেষ গুণ অহংকার প্রদর্শন করবে জাহান্নাম ছাড়া তার কোনো স্থান হবে না। (ইহয়াউল উলুম)

অহংকারী মানুষ জান্নাতে যাবে না

হযরত আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেন, যার অন্তরে বিন্দু মাত্র অহংকার থাকবে সে কখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (মুসলিম শরিফ, হাদীস নং ১৪৯)

এ হাদীস থেকে বুঝতে পারা গেল যে, অহংকারী ব্যক্তি তার অহংকারের সাজা ভোগ না করে জান্নাতে যেতে পারবে না। অহংকারী ব্যক্তি যদি কাফের হয় তাহলে তো কোনো দিনই জান্নাতে যাবে না। আর যদি সে ইমানদার হয় তাহলে আশা করা যায় সে তার অহংকারের সাজা ভোগ করার পর জান্নাতে যাবার উপযুক্ত হবে। ইনশাল্লাহ। কিন্তু অহংকারের সাজা কোনো সাধারণ সাজা নয়। সেই শাস্তি থেকে বাঁচতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই অহংকার থেকে সম্পূর্ণরূপে বেঁচে থাকতে হবে।

অহংকারীর ঠিকানা জাহান্নাম

হযরত হারেসা ইবন ওয়াহাব রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. ইরশাদ করেন, আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতের অধিকারীদের সম্পর্কে সংবাদ দিবো না? তাদের অধিকাংশই দুর্বল এবং এমন মানুষ যাদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করা হয়, তারা যদি আল্লাহর নামে কোনো কসম খায় তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তা পুরণ করেন। আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামবাসী সম্পর্কে সংবাদ দিব না? তারা হচ্ছে সেসব মানুষ যারা সব সময় ঝগড়া করে, দুর্ব্যবহার করে এবং যারা অহংকারী হয়। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং ৪৯১৮)

এক হাদীসে জান্নাতিদের দুটি গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক হচ্ছে এই যে, তারা দুর্বল নমনীয় হয়। অপরটি হচ্ছে এই যে, লোকেরা তাদেরকে তাদের এমন নমনীয়তা কোমলতা ও দারিদ্রের কারণে তুচ্ছ মনে করে। অথচ আল্লাহর কাছে তাদের মর্যাদা অনেক উচ্চে। আল্লাহ তাদেরকে এতটাই পসন্দ করেন যে, তারা যদি আল্লাহর নামে কোনো কসম করে তাহলে আল্লাহ তাদের সে কসমের কারণে তাদের আকাঙ্খা পুরণ করেন।

এর বিপরীতে জাহান্নামীদের তিনটি বিশেষত্ব উল্লেখ করা হয়েছে-

১. তারা খুব ঝগড়াটে হয়।
২. কঠোর স্বভাবের এবং অহংকারী হয়।
৩. নীচু প্রকৃতির হয়ে থাকে। এধরনের মানুষ আল্লাহর কাছে অপসন্দনীয় এবং অভিশপ্ত। তাদের ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত অন্য একটি হাদীসে রাসূল সা. ইরশাদ করেন, ‘জাহান্নামীদের স্বভাব খুব রুক্ষ এবং তারা লোভী ও অহংকারী হয়। আর জান্নাতিরা হয় দুর্বল ও নমনীয় স্বভাবের।’ (মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ৭০৩০)

মূলত এ সব স্বভাব আল্লাহর কাছে অত্যন্ত অপসন্দনীয়। এসব স্বভাব থেকে প্রত্যেকেরই বেঁচে থাকা কর্তব্য।

বর্ণনা থেকে আমরা জানতে পারি, অহংকারী ব্যক্তির পরিচয় হচ্ছে এই যে, তারা সত্যকে অস্বীকার করে এবং অন্যদেরকে নিজের চেয়ে ক্ষুদ্র মনে করে। (মিশকাত শরীফ ৩/৪৩৩)

এধরনের মানুষ দুনিয়া আখেরাতে লাঞ্ছিত অপমানিত হয়। আল্লাহ তায়ালা ইবলিসের অহংকার প্রদর্শনের ঘটনা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘তোর উপর আমার অভিশাপ রইল হিসাব দিবসের আগ পর্যন্ত। (সুরা সদ, আয়াত ৭৮)

দ্বিতীয় পর্ব পড়ুন: দ্য ট্রু মুসলিমস আইডেন্টিটি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *