নফল ইবাদাত আল্লাহ তাআলা অনর্থক চাপিয়ে দেননি : আল্লামা মাসঊদ

নফল ইবাদাত আল্লাহ তাআলা অনর্থক চাপিয়ে দেননি : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইসলামী শরীয়তে নফল ইবাদাতের ভূমিকার কথা জানাতে গিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, ‘নফল ইবাদাত আল্লাহ তাআলা বান্দার উপর অনর্থক চাপিয়ে দেননি, নফল ইবাদাতের অনেক ফজিলত রয়েছে।’

শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) জামিআ ইকরা সংলগ্ন হাজীপাড়া ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে ফিদায়ে মিল্লাত আসআদ মাদানীর এই খলীফা এসব কথা বলেন।

শাইখুল ইসলাম বলেন, ইসলামী শরীয়তে প্রতিটি ফরজ ইবাদাতের সাথে কিছু নফল ইবাদাতেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেমন, প্রত্যেক ফরজ নামাজের সাথে আল্লাহ তাআলা নফল নামাজ রেখেছেন। ইসলামে যাকাত দেয়া ফরজ, কিন্তু নফল সাদাকাতেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে রমজানের রোজার পর আল্লাহ তায়ালা বান্দার জন্য শাওওয়ালের ছয় রোজার ব্যবস্থা রেখেছেন।

আল্লাহ তাআলা বান্দার উপর নফল ইবাদাত অনর্থক চাপিয়ে দেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নফলগুলো অনর্থক নয় যে, আল্লাহ তাআলা বান্দার উপর খামোখা চাপিয়ে দিয়েছেন, নাউজুবিল্লাহি মিন যালিক। বরং ফরজ ইবাদাত আদায় করতে গিয়ে যে সাধারণ ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়, যেমন, আমরা সঠিকমতো রুকু-সেজদা আদায় করতে পারি না, এ জাতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোকে পূরণ করার জন্যই আল্লাহ তায়ালা নফল ইবাদাতের ব্যবস্থা রেখেছেন। নফল ইবাদাতে যে সোওয়াব হয়, এ দ্বারা আল্লাহ তায়ালা বান্দার ফরজ ইবাদাতের ত্রুটিগুলোকে পূরণ করে দেন।

শাওওয়ালের ছয় রোজার বিষয়ে এই আধ্যাত্মিক রাহবার বলেন, আমরা তো সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ ইবাদাত করতে পারি না। রমজানের রোজা রাখতে গিয়ে আমাদের অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে। ব্যবহারের মধ্যে ত্রুটি হয়েছে, কেনাকাটার মধ্যে ত্রুটি হয়েছে, রোজা রাখার মধ্যেও ত্রুটি হয়েছে। রমজানের ফরজ রোজার ত্রুটিগুলোকে পূরণ করতে আল্লাহ তাআলা শাওওয়ালের ছয় রোজার ব্যবস্থা রেখেছেন।

শাওওয়ালের ছয় রোজার ফযিলতের ব্যাপারে তিনি বলেন, এই ছয় রোজা নফল হলেও এর বড় ফজিলত রয়েছে। কেউ যদি রমজানের রোজা রাখার পর এই ছয় রোজা রাখে তাহলে সে সারা বছর রোজা রাখার সোওয়াব পেয়ে যায়।

সবাইকে শাওওয়ালের ছয় রোজা রাখার আহ্বান জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, আমরা নফল বলে যেন এই ছয় রোযাকে অবহেলা না করি। অসুবিধা থাকলে নফল আদায় করতে পারলেন না সেটা অন্য কথা। কিন্তু সুবিধা, সামর্থ্য থাকার পরও রোজা রাখলেন না, এই অবহেলা করা ঠিক হবে না। তাহলে রমজানের ত্রুটিবিচ্যুতি পূরণ হওয়া এবং সারা বছর রোজা রাখার সোওয়াব পাওয়া থেকে বঞ্চিত থেকে গেলেন।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে শাওওয়ালের ছয় রোজা পরিপূর্ণ ভাবে রাখার তাওফিক দান করুন। আমীন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *