ব্যবসার নামে আর কত ডাকাতি?
মুহাম্মদ আইয়ূব ● ব্যবসা একটি পবিত্র ইবাদাত ও মহৎ কাজ। সৎ ও নেককার ব্যবসায়ীর হাশর নবী, সিদ্দিক, শহিদ ও ওলি-আউলিয়াদের সাথে হবে এটা হাদিসেরই কথা। মহানবী (সা.)-সহ অনেক আম্বিয়ায়ে কেরাম, সাহাবায়ে কেরাম ও উলামায়ে কেরাম ব্যবসা করেছেন। এর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেছেন।
অপরদিকে যারা ব্যবসায় কারচুপি করে, ভেজাল পন্য দিয়ে কাস্টমার ঠকায়, মিথ্যা বলে, দুই নম্বরি করে ওজন ও মানে কম দেয়, তাদের সম্পর্কে আজাব ও কঠিন শাস্তির কথা আল্লাহ পাক সূরা মুতাফফিফিনের শুরুর দিকে বলেছেন। আমার কাছে খুব অবাক লাগে যে, করোনাভাইরাসের মত একটি গজব যখন আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে, সেসময়ও বনী ইসরাঈলের মত অতি মুনাফার আশায় মাস্ক ও অনান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সিন্ডিকেট করছি অথবা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছি চৌদ্দ গুন।
ভাই! এটা কি ব্যবসা নাকি ব্যবসার নামে ডাইরেক্ট ডাকাতি?! ব্যবসার নামে এমন ডাকাতি এদেশে নতুন কিছু নয়। হর হামেশাই হয়ে থাকে মুসলমানের এই দেশে। বিশ্বাস না হয় দেখুন। কেরানীগঞ্জ পাইকারী মার্কেট থেকে ৮ পিস মুজিবকোট কিনলাম চব্বিশ টাকায়, বাচ্চাদের স্যুট সেট ছয় পিছ ছত্রিশ টাকায়, আরো অনেক কেনাকাটা করলাম দোকানের জন্য। এবার বিক্রীর পালা। মুজিব কোট সাতশ প্রতি পিছ, কাস্টমার যদি হাবাগোবা সরলসোজা টাইপের হয়, আর যদি কাষ্টমার মহিলা হয়, মাছের ভাগার মত দর কষাকষি শুরু করে, তাহলে টেনেটুনি ছয়শ। বাচ্চাদের স্যুট বারশ মহিলাদের খপ্পরে এক হাজার।
আপা এই কোট ভাইয়ের জন্য, আর এটা আমার ভাতিজার জন্য নিয়ে যান, খুব ঝাক্কাস হবে। খুব ভাল মানের কোট, অরিজিনাল বিদেশী, জেফ বেজোস আর বিল গেটসরা এই কোম্পানির কোট পরে, নেন নেন কসম আল্লাহর ঠকবেন না। নিয়ে যান পছন্দ না হইলে ফেরত দিয়েন, চার পাঁচ জন দেখে গেছে টাকা ছিল না বলে চলে গেছে, বিকালে টাকা নিয়ে আসবে তখন কিন্তু কানলেও পাইবেন না, লন, লন।
ঠিক এভাবেই আমাদের ব্যবসা চলে। আমি এটাকে ব্যবসা বলতে নারাজ। কারণ ব্যবসা পবিত্র জিনিস, নবী রাসূলরা করেছেন। আমি এটাকে ধান্ধা বলি। আমার মনে হয় এদেশে কোন ব্যবসায়ী নাই, সবাই ধান্ধাবাজ। কারণ সত্যিকারের ব্যবসা করে এদেশে কেউ টিকে থাকতে পারে না। সত্য যে বলি না বিষয়টা এমন না। মাঝে মাঝে ভুলে মুখ দিয়ে সত্য বের হয়ে যায়। বিচক্ষণ কাস্টমার হলে ধরা খেয়ে ও বেঁচে যায়। কারণ মিথ্যা নামে একটা নামিদামী অস্ত্র সবসময় আমাদের কাছে মজুদ থাকে।
প্রিয় পাঠক! গালি কি দিয়ে ফেলেছেন, কয়টা? একশোটা? দেন কোন আপত্তি নেই। নধান্ধাবাজরা গালিরই উপযুক্ত। জুতা দিয়া পিটান সমস্যা নাই। তারপরও আমি আপনার একটা ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত। কেননা আমি জানি আমি ধান্ধাবাজ। আর এটা আমি স্বীকার ও করি। কিন্তু তাদের আপনি কি বলবেন, যারা টুপি দাড়ি লাগিয়ে, দাড়িতে আবার মেনদি দিয়ে, প্রত্যেক বছর দলবল সহ হজ করিয়া হাজী নাম ফুটাইয়া ব্যবসায় হালাল হারামের ধার ধারে না? আল্লাহ রাসূলের নাম নিয়া ফলে ফরমালিন মিশায়?
আজ ওমর (রা.)-এর যুগ থাকলে আমার আগে ওদেরই কল্লা উইড়া যাইতো। আল্লাহ বাঁচাইছে। শুকুর আলহামদুলিল্লাহ।
লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক


