করোনায় কেন আক্রান্ত উম্মত? আল্লামা মাসঊদের অগ্রিম হুঁশিয়ারির স্মৃতি

করোনায় কেন আক্রান্ত উম্মত? আল্লামা মাসঊদের অগ্রিম হুঁশিয়ারির স্মৃতি

করোনা, গজব ও আল্লামা মাসঊদের ছড়িয়ে দেয়া আওয়াজ

করোনায় কেন আক্রান্ত উম্মত? আল্লামা মাসঊদের অগ্রিম হুঁশিয়ারির স্মৃতি

আদিল মাহমুদ ● এমনি এমনি সৃষ্টি হয়নি এই সুন্দর পৃথিবী। এর একজন স্রষ্টা আছেন। যিনি করুণার আধার, দয়ার নিধান, আমাদের মালিক আল্লাহ তাআলা। যিনি এই জগতের সবকিছু মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকার জন্য বানিয়েছেন। আকাশে চাঁদ, সূর্য, নক্ষত্র, মেঘমালা, বায়ুপ্রবাহ এবং পৃথিবীর ফল-ফসল, নদী, বৃক্ষ, পর্বতমালা সব কিছুই মানুষের উপকারার্থে সৃষ্টি করেছেন। আর মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা হিসেবে বানিয়েছেন তার ইবাদতের জন্য। দাসত্বের জন্য। সস্তুষ্টি অর্জনের আপ্রাণ চেষ্টায় নিয়োজিত থাকার জন্য। যখন কোন মানুষ কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশ পালন করে ইবাদত করতে ব্যর্থ হয়; বুঝতে হবে মানুষ হিসেবে তাকে সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ।

সৃষ্টির সেরা জীব যদি তার আসল মালিককে ভুলে যায়। তার আদেশ-নিষেধ অমান্য করে, তাহলে তার মালিক শুধু অসন্তুষ্টই হন না, বরং তাকে শাস্তি দিতে বাধ্য হন। তবে তিনি যেহেতু অতিশয় মেহেরবান ও দয়াময়। এজন্য তিনি তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রয়োগ করেন না। অবকাশ দেন, বারবার সুযোগ দেন। তা ছাড়া আমাদের পেয়ারে নবিজি মুহাম্মদ (সা.) তো দুআ করেছিলেন যে- ‘তার উম্মতকে যেন আগেকার উম্মতের মতো শাস্তি তথা মানবাকৃতিকে বানর, শূকর ইত্যাদির আকৃতিতে রূপান্তর, পাথরের বৃষ্টি, ভূমি উল্টিয়ে দেওয়ার মতো কঠিন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিনষ্ট করা না হয়।’

সম্প্রতি চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস এমনিতেই আসেনি। এই ভাইরাস আমাদের হাতের কামাই। পাপের ফসল। আল্লাহ তাআলার গজব। আমাদের জন্য শাস্তি স্বরূপ।

মানুষ পাপ করতে করতে যখন পাপের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখনই আল্লাহর শাস্তি নাজিল হয়। পাপিষ্ঠ ফেরাউনকে আল্লাহ তাআলা তখনই ধরেছেন, যখন সে নিজেকে খোদা বলে দাবি করেছে। অনুরূপভাবে আদ, সামুদ প্রভৃতি জাতিকে তাদের সীমাহীন পাপাচারের কারণে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বনি ইসরাইলরা আল্লাহর কিতাব তাওরাতকে অস্বীকার, মান্না ও সালওয়ার পরিবর্তে খারাপ জিনিস তথা ভূমির উৎপন্ন জিনিস চাওয়া, আমালেকা সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আল্লাহর অগণিত নিয়ামত ভোগ করেও অকৃতজ্ঞ হওয়ার কারণে চির লাঞ্ছনা ও ক্রোধে পতিত হয়েছে। আগের নবীদের এসব কাহিনী পবিত্র কোরআনে আলোচনা করে আল্লাহ তাআলা এটিই বোঝাতে চেয়েছেন, যদি এই উম্মতে মুহাম্মদিও তাদের মতো পাপাচারে লিপ্ত হয়, তবে তাদের পরিণতিও অনুরূপ হবে। একই ভাগ্য বরণ করতে হবে।

সম্প্রতি চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস এমনিতেই আসেনি। এই ভাইরাস আমাদের হাতের কামাই। পাপের ফসল। আল্লাহ তাআলার গজব। আমাদের জন্য শাস্তি স্বরূপ। পৃথিবীর কোন শক্তি নেই তার মোকাবেলা করার। সকল মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেলেও তার মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। এই প্রাণঘাতি ভাইরাস রক্ষা থেকে পাওয়ার একমাত্র উপায় তওবা। এর থেকে তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা।

বিশ্বের বাতাস দূষিত হয়ে গেছে। মাদক, দুর্নীতি, মিথ্যা, গীবত, পরনিন্দা, সুদ, ঘুষ ও হরেকরকম পাপাচারের ঘ্রাণ বাতসে ছড়িয়ে পড়ছে। অচিরেই আল্লাহর শাস্তি আসতে পারে। এই শাস্তি থেকে বাঁচতে বাতাসকে পরিশুদ্ধ করতে হবে।

একটা বিষয় লক্ষণীয়! বিগত দুই বছর থেকে দেখছি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়া ও বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী (রহ.)-এর খলীফা, পীরে কামেল আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ (দা.বা.) যে কোন অনুষ্ঠান, ইসলাহী মাহফিল ও ইজতেমায় বারবার শুধু একটি কথা বলছেন- ‘বিশ্বের বাতাস দূষিত হয়ে গেছে। মাদক, দুর্নীতি, মিথ্যা, গীবত, পরনিন্দা, সুদ, ঘুষ ও হরেকরকম পাপাচারের ঘ্রাণ বাতসে ছড়িয়ে পড়ছে। অচিরেই আল্লাহর শাস্তি আসতে পারে। এই শাস্তি থেকে বাঁচতে বাতাসকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। ইবাদত-বন্দেগি করে, পবিত্র কুরআন-সুন্নাহের নির্দেশ পালন করে, নেক আমালের শুদ্ধতা ছড়িয়ে দিয়ে, আল্লাহ তাআলা ও তার নামের জিকির করে বাতাসকে ভারী করতে হবে।’

এই বৃদ্ধ বয়সে এসে সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্বীনের বার্তা ছড়িয়ে দেয়া ও আকাশে-বাতাসে জিকিরের আওয়াজ ভারী করা লক্ষ্যে দেশব্যাপি মাসিক ইসলাহী ইজতেমার ডাক দিয়েছেন তিনি। বিগত প্রায় এক বছরে খুলনা, নোয়াখালী, ফেনী, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মৌলভীবাজার, সিলেট, রংপুর ও কিশোরগঞ্জের জেলা, উপজেলা কিংবা অজপাড়া গ্রামে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার উদ‌্যোগে আয়োজিত ইসলাহী ইজতেমা হাজির হয়ে তিনি একথাই বলছেন- ‘হে মুসলিম উম্মাহ! আল্লাহ আমাদের ডাকছেন। আইসো, আইসো, আমার কাছেই আইসো। এখানেই তোমাদের নাজাত ও মুক্তি। এখন কি সময় হয়নি, আমার কাছে ফিরে আসার। তওবা করে আমার রহমতের দিকে ফিরে আসার। এই অবজ্ঞা আর কতদিন! আর কতকাল!’

এক হও, নেক হও। আল্লাহর রহমতের দিকে আসো। বর্তমান সময়ে নেক এবং এক হওয়ার কোন বিকল্প নেই। আল্লাহ আমাদের ডাকছেন। আমরা তওবা করে তার দিকে ফিরে আসি। তার জিকির করে বাতাস ভারী করি।

আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সর্বত্র আল্লাহর কালিমা বুলন্দ করার লক্ষ্যে, আল্লাহর আওয়াজ সমুচ্চ রাখার নিমিত্যে, দাওয়াত ও সৎ পথে আহ্বান, তালিম, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, তাযকিয়া, আত্মশুদ্ধি ও জীবন পরিশুদ্ধি, রুহানী মোড়কে নিজেকে আবৃত্ত করে, পারস্পরিক হানাহানি ভুলে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচতে, নেক আমালের শুদ্ধতা ছড়িয়ে দিয়ে, জিকির করে বাতাসকে ভারী করার আহ্বান জানাচ্ছেন এসব ইসলাহী ইজতেমা।

কুতবে বাঙাল এই মনিষি হয়তো আগে থেকেই কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলেন, করোনাভাইরাসের মত ভয়াবহ কোন গজব ধেয়ে আসছে উম্মতকে গ্রাস করতে। মৃত্যু যার অবধারিত পরিণাম হতে পারে। তাই তিনি বারবার তাওবার আহ্বান জানিয়ে বলছিলেন, ‘এক হও, নেক হও। আল্লাহর রহমতের দিকে আসো। বর্তমান সময়ে নেক এবং এক হওয়ার কোন বিকল্প নেই। আল্লাহ আমাদের ডাকছেন। আমরা তওবা করে তার দিকে ফিরে আসি। তার জিকির করে বাতাস ভারী করি।’

এই সুবাদে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এই গজব দেখেও তাদের শিক্ষা হচ্ছে না! কবে তারা ভালো হবে! হেদায়ত পাবে জানিনা!

মুসলিম উম্মাহ যদি তার ডাকে সাড়া দিয়ে পিছনের জিন্দেগির উপর তওবা করে পাপাচার ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরে আসতো, তাহলে হয়তো প্রাণঘাতি করোনা ভাইরস আল্লাহর পক্ষ থেকে গজব হয়ে আসতো না! হাজার হাজার মানুষের লাশ দেখতে হতে না! এই মহামারির ভয় অন্তরে রেখে জীবন-যাপন করতে হতো না! কিছুদিন আগে বাংলাদেশের ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ কিলোমিটারেও এসে হাজির হয়েছে এই করোনা ভাইরস। তিনজন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট আইইডিসিআর। এই সুবাদে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এই গজব দেখেও তাদের শিক্ষা হচ্ছে না! কবে তারা ভালো হবে! হেদায়ত পাবে জানিনা!

পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে অনেক বেশি অরক্ষিত এবং অস্বাস্থকর আমাদের বাংলাদেশ। এখানে করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারন করলে এর সংক্রমণে চীনের চেয়েও ভয়াবহ হবে। কি যে হবে তা আমরা কল্পনাও করতে পারবো না। তাই প্রাণঘাতি এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদে তাওবা আহ্বানে সাড়া দিয়ে, তার কথা মত জুমার দিন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের মসজিদে মসজিদে দুআ দিবস পালন করি। আল্লাহর কাছে রোনাজারি করি। বাহ্যিক সতর্কতা অবলম্বন করি। নিজেদেরকে সুরক্ষা রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। মনে রাখতে হবে, কেবল বাহ্যিক সতর্কতা অবলম্বনেই করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। আমাদেরকে তাওবা করতে হবে। গোনাহ ছাড়তে হবে। আল্লাহর কাছে ফিরতে হবে। একমাত্র আল্লাহ তাআলাই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই মহামারি থেকে আমাদেরকে মুক্তি দিতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *