১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১০ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

নবীজীর জন্ম উম্মতের জন্য রহমত : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নবীজী হযরত মুহাম্মাদ সা. এর জন্ম এই উম্মতের জন্য রহমত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, সাইয়্যিদ মাওলানা আসআদ মাদানী (রহ.) এর খলীফা, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তিনি বলেন, রাসূল সা. জন্মগ্রহণ না করলে প্রেম-ভালোবাসা কী জিনিষ মানুষ জানতো না, সহমর্মিতা ও সহানুভূতি সম্পর্কে মানুষ অজ্ঞ থাকতো, আল্লাহর সাথে মানুষের গভীর সম্পর্ক হতো না। তাই একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, রাসূল সা. এর জন্ম এই উম্মতের জন্য বিরাট রহমত।

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) ইকরা বাংলাদেশ ঝিল মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে এসব কথা বলেন তিনি।

রাসূল সা. এর উন্নত চরিত্রের বর্ণনা দিতে গিয়ে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, রাসূল সা. ছিলেন সকল নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং কোনো সন্দেহ ছাড়া তিনি সমগ্র মানবকূলের মাঝেও শ্রেষ্ঠ ছিলেন। আজ পর্যন্ত কেউ তার সমতুল্য হতে পারে নি, এবং কেয়ামত পর্যন্তও কেউ তার সমকক্ষ-সমতুল্য হতে পারবে না। তিনি ছিলেন গুণের আধার। পৃথিবীর সব উন্নত আখলাককে আল্লাহ তাআলা তার মাঝে সন্নিবেশিত করেছিলেন। এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে কেউ তাঁকে পেছনে ফেলতে পারে। এমন কোনো গুণ নেই, যেখানে কেউ তাঁকে ছুঁতে পারে। এমন বৈশিষ্ট নেই, যেখানে কেউ তাঁর সমকক্ষ হতে পারে। তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠদেরও শ্রেষ্ঠ।

মানুষকে পাল্টে দিতেই রাসূলের আগমন হয়েছিল উল্লেখ করে শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ ঊদ্দীন মাসঊদ বলেন, মানব ইতিহাসের এক বর্বর যুগে রাসূল সা. এই পৃথিবীতে এসেছিলেন। যে যুগকে ‘আইয়্যামে জাহিলিয়্যাত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেটা ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। সে যুগে মানুষকে মানুষ মনে করা হতো না। কন্যা সন্তানকে লজ্জার বিষয় গণ্য করা হতো। কন্যা সন্তানদের মাটিতে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো। সে বর্বর যুগে রাসূল সা. এর আগমন হয়েছিল মানুষকে মানুষ বানানোর জন্য। বর্বর, হিংস্র, নির্দয়, অমানুষগুলোকে রাসূল সা. মানুষ বানিয়েছেন, অন্ধকার হৃদয়ে হেদায়েতের আলো জ্বেলেছেন, প্রেম-ভালোবাসা দিয়ে তাদেরকে সোনার মানুষে রুপান্তরিত করেছেন। তাঁর প্রতিটি সাহাবীকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে রেখে গেছেন।

আরও পড়ুন: হকের উপরে চলতে হলে দেওবন্দ ও দেওবন্দিয়তের বিকল্প নেই : আল্লামা মাসঊদ

রবিউল আউওয়াল মাসে রাসূলের আদর্শে উজ্জিবীত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, মানুষ পাল্টানোর কাজ আঞ্জাম দিতে গিয়ে রাসূল সা. স্রোতের উল্টো পথে পাথরের মতো অবিচল ছিলেন। কতো নিন্দার ঝড়, কতো সমালোচনার ঝড়, কতো পাপাচারের ঝড়, কতো অত্যাচার-নিপীড়ণের ঝড় তার উপর দিয়ে গিয়েছে, তবুও তিনি স্রোতের বিপরীতে পাথরের মতো অটল-অবিচল ছিলেন। কেউ তাঁকে তার লক্ষ্য থেকে এক বিন্দু পরিমানও সরাতে পারে নি। ফলে রাসূলের অক্লান্ত পরিশ্রমে সমাজে অমূল পরিবর্তন আসলো।

তিনি বলেন, আগে যেখানে অত্যাচার হতো এখন সেখানে ন্যায়ের হাওয়া প্রবাহিত হতে শুরু করলো, আগে যে এলাকায় পাপাচার হতো সে এলাকায় এখন আল্লাহর জিকিরের হাওয়া প্রবাহিত হতে শুরু করলো, আগে যেসব মানুষদের অন্তরে প্রেম-ভালোবাসা-সম্প্রীতির অনুপস্থিতি ছিলো, সে অন্তরগুলো প্রেম-ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে গেলো। এভাবেই রাসূল স্রোতের বিপরীত পথে পাথরের মতো অটল অবিচল থেকে মানুষ পাল্টানোর কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। সুতরাং আমরাও স্রোতের উল্টো পথে রাসূল সা. এর মতো পাথরের মতো সুদৃঢ় থেকে মানুষ পাল্টানোর কাজ আঞ্জাম দিবো। তবেই আমাদের রবিউল আউওয়াল মাস উদযাপন সার্থক হবে।

খাঁটি মানুষ হওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে তিনি বলেন, বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে মানুষ অনেক অসাধ্যকে সাধন করছে। এখন মানুষের ক্লোন বানানোর চেষ্টাও করছে বিজ্ঞান। এ যুগে সব আছে, কিন্তু মানুষ নাই। আমাদেরকে মানুষ হতে হবে। খাঁটি মানুষ হতে হবে। আর মানুষ হতে হলে রাসূল সা. এর কাছে আসতে হবে। তার পথে চলতে হবে। তবেই আমরা মানুষ হয়ে দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হতে পারবো। ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com