নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আহ্বান আজমলের
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রতিবেশি রাষ্ট্র বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ) প্রধান বদরুদ্দিন আজমল। শনিবার আসামের বঙ্গাইগাঁও-এ দলের প্রার্থীর সমর্থনে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এসময় আজমল মোদিকে ধর্মের মধ্যে বিভাজন তৈরির অভিযোগ তুলে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মুসলিমদের হিন্দু ধর্মে পরিণত করার প্রচেষ্টা করছেন। এমনকি আমাদের দেশকে হিন্দু রাষ্ট্র বানাতে সংবিধানও পরিবর্তন করতে চান মোদিজি।’
আসামের ধুবড়ী এর সাংসদ আজমল আরও বলেন, ‘শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিম ও হিন্দু মোদিকে আর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে চাইছেন না। তাকে বাংলাদেশে পাঠানো উচিত, যেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। কিন্তু তাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী কিছুতেই হতে দেব না।’
এআইইউডিএফ-এর দুই বারের এই সাংসদ এই রাজনীতিবিদ পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ‘কয়েক কোটি মুসলিমকে হিন্দু ধর্মে পরিবর্তন করানোর মাধ্যমে আমি বিজেপি বা মোদি কাউকেই দেশের জনবিন্যাস বা সংবিধানের পরিবর্তন করতে দেবো না। এই জিনিস থামাতে আপনাদের সমর্থন চাই।’
নিজেকে ‘মোদি বিরোধী জোট বন্ধন’ এর অংশ দাবী করে তিনি আরো বলেন,’ আমাদের সবার উচিৎ ঐক্যবদ্ধভাবে মোদিকে দেশ থেকে বের করে দেয়া, সে যেকোন জায়গায় গিয়ে চায়ের দোকান দিয়ে পাকোড়া বিক্রি করতে পারবে’
উল্লেখ্য আসামের ধুবড়ী অঞ্চলের দুইবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় সাংসদ বদরুদ্দীন আজমল এবারো নির্বাচনে এআইইউডিএফ থেকে লড়ছেন।
এদিকে আসামের জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি ও পার্লামেন্ট সদস্য মাওলানা বদরুদ্দীন আজমলকে ‘ইলু-ইলু’ ভর্ৎসনা করে বক্তব্য দেন বিজেপির নির্বাচন পরিচালক হীমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘কংগ্রেস গোপনে আঁতাত করেছে আজমলে সঙ্গে। দিনে কুস্তি, রাতে দোস্তি।’ যুযুধান দুই পক্ষের মুখেই এখন ইলু-ইলু। সামনেই আসামের প্রধান উৎসব রাঙালি বিহু। তার আগে ফের হিন্দি গানের সুর ফিরে এসেছে মুখে মুখে।
কংগ্রেস ও বিজেপি উভয়েরই হুংকার, আজমলকে আসামের রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ণ করে দেবে। ওদিকে রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তরুণ গগৈও তাকে ছেড়ে কথা বলেননি। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, আজমল বিজেপির দালাল। কংগ্রেসের ভোট কাটতেই তাঁকে ব্যবহার করছে বিজেপি।
ভারতে আসামের আকাশে-বাতাসে এখন নব্বই দশকের গোরার দিকে মুম্বাইয়ের বিখ্যাত হিন্দি গানের কলি ‘ইলু ইলু’ ছড়াছড়ি। এই বিখ্যাত গানের লাইন, ‘ইলুকা মতলব আই লাভ ইউ।’ আসামে ভোট বাজারে এই বিখ্যাত গানের কলি বাজারে ছেড়ে গিয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তারপর থেকেই বেশ জমে উঠেছে, ইলু-ইলু কটাক্ষ।


