পাথেয় রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুরে পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতের এ ঘটনায় সাত পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। নিহত আশিকুর রহমান (২৫) একজন পোশাকশ্রমিক বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, নিহত আশিকুর মদনপুরের চাঁনপুর এলাকার শহীদুল ইসলামের ছেলে। তিনি মদনপুরের প্যানডেক্স গার্মেন্টসের শ্রমিক ছিলেন। ওয়ারেন্টভূক্ত বিভিন্ন মামলার আসামি ধরতে বন্দর থানা পুলিশ মদনপুরের চাঁনপুরে শনিবার রাতে অভিযান চালায়। তারা আসামিদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা টেঁটা, বল্লম, বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এলাকায় ডাকাত আক্রমণ করেছে বলে তাত্ক্ষণিক মসজিদের মাইকে জানিয়ে দেয়া হলে স্থানীয়রা পুলিশের উপর আক্রমণ চালায়।
আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা ফাঁকা গুলি ছুড়লে এতে পুলিশের সাথে স্থানীয়দের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলি বিনিময় হয় এবং স্থানীয়রা পুলিশের দুটি গাড়ি ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করে। এতে ঘটনাস্থলে ৭ পুলিশ সদস্য, একজন সাংবাদিক ও স্থানীয় ১২ জনসহ ২০ জন আহত হন। এতে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে খবর পেয়ে রাতেই অতিরিক্ত তিন প্লাটুন পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এক ঘণ্টা পর ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি আজহারুল ইসলাম গুলি ছোড়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুগ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে সম্প্রতি ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
শনিবার দুগ্রুপের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা দেখা দেয়। সেখানে পুলিশ যাওয়ার পর পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে পুলিশসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান ওসি।


