নারীদের জন্য বিপজ্জনক দেশের শীর্ষে ভারত

নারীদের জন্য বিপজ্জনক দেশের শীর্ষে ভারত

পাথেয় ডেস্ক : বিশ্বে নারীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ হচ্ছে ভারত। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির নারীরাই সবচেযে বেশি সহিংসতা ও নিপীড়নের শিকার বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন প্রকাশিত এক তালিকায় দেখা যায় নারীদের জন্য বিপজ্জনক বিশ্বের এমন ১০টি দেশের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে ভারত।

তালিকায় ভারতের পরেই রয়েছে আফগানিস্তানের নাম। তারপরই রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া। এরপর যথাক্রমে সোমালিয়া, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ডিআর কঙ্গো, ইয়েমেন ও নাইজেরিয়া। প্রথম দশে একমাত্র পশ্চিমি দেশ হিসেবে আছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই তালিকা তৈরিতে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের ৫৫০ জন বিশেষজ্ঞ। এখানে হিসেব করা হয়েছে যৌন নিপীড়ন, পাচার, জোরপূর্বক শ্রম, বলপূর্বক বিয়ে, যৌন দাসত্ব ও ঘরোয়া সহিংসতার শিকার।

এছাড়া সাংস্কৃতিক রীতি অনুযায়ী নারীরা কতটা বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে সেটাও আমলে নেওয়া হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, ভারত নারী সুরক্ষায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। শতকোটিরও বেশি জনসংখ্যার দেশটিতে দিনের পর দিন বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা। শিশুনিগ্রহও চলছে। তাদের দাবি, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এখনো পণ্য হিসেবে বিক্রি করা হয় নারীদের। তবে এর বিরুদ্ধে তেমনভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলেই অভিযোগ। গ্রেফতার হয় না অপরাধী। হলেও জামিন পেয়ে ফের একই অপরাধ করেছে ধর্ষক ও নির্যাতনকারীরা। দেশটিতে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে যেতে চান না নিগৃহীতা বা তার পরিবার।

সাত বছর আগে এই একই জরিপে ভারত চতুর্থ অবস্থানে ছিল। ২০১২ সালে ভারতের ধর্ষণ এবং যৌন অত্যচারের বিষয়টা সামনে চলে আসে, যখন নয়াদিল্লীতে পাবলিক বাসে এক নারী শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনা ঘটে।

তালিকার ১০টি দেশের ৯টিই এশিয়া, আফ্রিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্য থেকে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রই পাশ্চাত্যের। ফাউন্ডেশনটি জানায়, #মিটু আন্দোলন সরাসরি এই তালিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। আফগানিস্তানে সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হন নারীরা। তবে এটা যৌন সহিংসতা নয়। যুদ্ধ সহিংসতার শিকার তারা। পান না সঠিক স্বাস্থ্যসেবাও। এরপরই রয়েছে আরেক যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া। সেখানেও নারীরা যুদ্ধ সহিংসতার শিকার। স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত তারা।

থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন জানায়, , ‘২০৩০ সালের মধ্যে নারী নির্যাতন এবং বৈষম্য দূর করার সংকল্প নিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। নারীরা যেন স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক, আর্থিক এবং সামাজিক জীবনযাপন করতে পারে সেই চেষ্টা করবেন তারা। তবে তাদের সংকল্প থাকা সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে, সারা বিশ্বে প্রতি তিনজন নারীর একজন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনও বাল্য বিবাহ বিদ্যমান। ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়ে যায় প্রায় ৭৫ কোটি নারীর। ফলে পড়াশোনার সুযোগ হয় না তাদের। তৈরি হয় স্বাস্থ্যঝুঁকি।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *