পরিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ চেতনায় শিক্ষার্থীদের গড়ুন

পরিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ চেতনায় শিক্ষার্থীদের গড়ুন

পরিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ চেতনায় শিক্ষার্থীদের গড়ুন

মাওলানা আমিনুল ইসলাম : কওমী মাদ্রাসার এখন শিক্ষাবর্ষের শুরু। সারাদেশের মাদ্রাসাগুলোতে নবীন ছাত্রদের পদচারনায় মুখরিত। বিশেষ করে ঢাকা শহরের মাদ্রাসাগুলোতে নবীন ছাত্রদের উপচে পড়া ভিড়।

আমাদের এই বাংলাদেশ শুধু নয়। পুরো পাক- ভারত উপমহাদেশের সকল মাদ্রাসায় নতুন শিক্ষাবর্ষের উদ্বোধন হয়েছে। নতুন নতুন ছাত্র, দ্বীনি ইলম পিপাসুগণ দলে দলে হাজির হচ্ছে মাদ্রাসায়।

আমাদের সকল মাদ্রাসাগুলো দারুল উলুম দেওবন্দের অনুসারী। দেওবন্দের তালিমী নেসাব আমরা ফলো করে থাকি। দেওবন্দের সকল কার্যক্রম অনুকরণ আর অনুসরণ করি আমরা।

দারুল উলুমের আকাবিরগণ হলেন, আমাদের ছারে তাজ। এই দেওবন্দ থেকে যত মহা -মনীষীগণ এর গুজরান হয়েছে, সকল মুরুব্বীদের আমরা শ্রদ্ধা- ভালবাসায় মাথায় রাখি।

বন্ধু, আমাদের ভালভাবে মনে রাখা দরকার। দেওবন্দ মাদ্রাসা কিন্তু শুধু নেসাবে তা’লীমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

দেওবন্দের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো, ছাত্রদের জেহেন তৈরী করা। স্বচ্ছ চিন্তা -চেতনায় একজন তালেবুল ইলমকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া। এছাড়া ছাত্রদের উত্তম চরিত্র গঠন। আর তার জন্য রয়েছে আত্মশুদ্ধির মেহনত। আদর্শবান ছাত্রের জন্যে আত্মশুদ্ধির বিকল্প নেই।

দুঃখজনক হলেও সত্য। আমরা কিন্তু এসব বিষয়গুলো এর ব্যাপারে দারুল উলুমের মত এগিয়ে যেতে পারছি না। দারুল উলুম যেভাবে ছাত্রদের গঠন করছে, ছাত্রদের যেভাবে স্বচ্ছ ধারণা দিচ্ছে, আমরা সেভাবে পারছি না।

আজ আমাদের কিছু কিছু কওমী মাদ্রাসায় ছাত্রদের জেহেন গড়বড়ি হয়ে যাচ্ছে। সু-চিন্তা, এবং বাতিলের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা ওয়ালা আলেমের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে ছাত্রদের সঠিক তরবিয়তের অভাবে, বাতিল সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানের অভাব। কিছু ছাত্র বাতিলের কাছে নতি স্বীকার করছে। বাতিল চিন্তা- চেতনা তাদের গ্রাস করে নিচ্ছে।

বহু ফেরাকে বাতেলা আমাদের সমাজে, কিন্তু সকল ফেরাকে বাতেলার ব্যাপারে ছাত্রদের জ্ঞান দিতে আমরা অক্ষম হচ্ছি। এবং এব্যাপারে ফিকিরও আমাদের কমে গেছে।

দারুল উলুম দেওবন্দে একটা ছাত্র পড়লে, তার একটা বিশাল জেহেন তৈরী হয়। সকল বাতিলের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা জন্মে। কোন বাতিল শক্তি সহজেই দারুল উলুমের সন্তানকে গ্রাস করতে পারে না।

কিন্তু আমরা বাংলাদেশে হালজামানায় এই বিষয় গুলোতে পিছে পড়ে যাচ্ছি। আজকাল আমাদের মাদ্রাসার কিছু কিছু ছাত্র- উস্তাদ বিপদগামী হচ্ছে। বিভ্রান্তিমুলক কথা – বার্তা শোনা যাচ্ছে তাদের মুখ থেকে। নীতি ভ্রষ্ট হচ্ছে অনেকে।

অথচ দারুল উলুমের দেড়শত বছরের ইতিহাসে খুব কমই মিলবে, দেওবন্দের ছাত্রদের বাতিল শক্তি গ্রাস করে ফেলেছে। আগে কিন্তু আমাদের কওমী মাদ্রাসাতে বাতিল আকিদা পোষনকারী গোষ্ঠি এবং বাতিল আকিদা সম্পর্কে ট্রেনিং হত। বিতর্ক অনুষ্ঠান হত। কিন্তু আমরা এখন দুূর্বল হয়ে পড়েছি। সেভাবে এখন ট্রেনিং চলছেনা। বাতিলের মুখোস সেভাবে উম্মোচন করা হচ্ছে না।

এমনিভাবে আত্মশুদ্ধির মেহনতের ব্যাপারে ছাত্রদের উৎসাহ দেওয়া চাই। মাদ্রাসায় মাদ্রাসায় উত্তম আখলাক গঠনের প্রশিক্ষণ হওয়া প্রয়োজন মনে করছি। দারুল উলুম দেওবন্দের মত এভাবে ছাত্রদের জেহেন তৈরী এবং আত্মশুদ্ধির মেহনত চালু রাখলে ছাত্রদের অনেক ফায়দা হবে ইনশাআল্লাহ।

আমরা আশাবাদী আমাদের মুরুব্বী আলেমগণ আগের ন্যায় বাতিলের ব্যাপারে সোচ্চার হবেন। আর বাতিলের ব্যাপারে ছাত্রদের সম্যক জ্ঞান দান করবেন।

আমাদের মফস্বলের মাদ্রাসাগুলোর তো আরো করুণ অবস্থা। ঢাকা শহরে তো কমবেশী একটা মেহনত করা হয়। জেহেন তৈরী, সু- চিন্তা- চেতনায় গড়ে তোলার ব্যাপারে কোন কোন মাদ্রাসা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু গ্রাম- গঞ্জে এব্যাপারে কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। বড় আফসোস। সর্বোপরি বলতে চাই পরিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ চেতনায় শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলুন।

লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *